ছোট পাথরঘাটা দাখিল মাদ্রাসা ঘিরে জালিয়াতির অভিযোগ, নেপথ্যে সুপার কাদের

সাইফুল ইসলাম রাফিন, বিশেষ প্রতিনিধি:

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো এমপিও নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত ‘সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি), অফিস সহকারী এবং দাখিল স্তরের ‘সহকারী মৌলভী’ পদের নিবন্ধন সনদ দিয়ে ‘ইবতেদায়ী জুনিয়র মৌলভী’ পদে নিয়োগ দিয়ে বছরের পর বছর ধরে বেতন ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার ছোট পাথরঘাটা দাখিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

জনবল কাঠামো অনুযায়ী এসব পদের কোনো বৈধতা না থাকলেও, জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দিয়ে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এমপিওভুক্তির পর থেকে ‌ বর্তমান সময় পর্যন্ত তারা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন।

জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী দাখিল মাদ্রাসায় অনুমোদিত প্যাটার্নের বাইরে অতিরিক্ত কোনো সহকারী শিক্ষক, অফিস সহকারী এবং দাখিল স্তরের ‘সহকারী মৌলভী’ পদের নিবন্ধন সনদ দেখিয়ে ‘ইবতেদায়ী জুনিয়র মৌলভী’ পদে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই।

এই অবৈধ তিন টি পদের ভিতরে ইবতেদায়ী জুনিয়র মৌলভী ও অফিস সহকারি পদ দুটির নিয়োগ দিয়েছেন বর্তমান সুপার মোঃ আঃ কাদের (ইনডেক্স- এন২০৯৯৪৪৯)। তিনি সুপার পদে ৩০.০৪.২০১৫ তারিখ যোগদান করে ১৬.১১.২০১৬ তারিখ এমপিওভূক্ত হন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জনবল কাঠামো ১৯৯৫, ২০১০ ও ২০১৮ অনুযায়ী দাখিল মাদ্রাসায় সহকারি শিক্ষক (বাংলা, ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যাবসায় শিক্ষা) থেকে ২ জন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে। সেখানে কামরুন্নাহার (ইনডেক্স- এন২০৩০৯৪৬) সামাজিক বিজ্ঞান পদে নিয়োগ পেয়ে ১১.০৮.২০১০ তারিখে যোগদান করে ০১.০১.২০১১ তারিখ এমপিওভূক্ত হন ও মোঃ আমিনুল ইসলাম (ইনডেক্স- এন২১০৭৪২৮) সামাজিক বিজ্ঞান পদে নিয়োগ পেয়ে ১১.০৮.২০১০ তারিখে যোগদান করে ০১.১১.২০১৪ তারিখে এমপিওভূক্ত হন । পরে জালিয়াতির মাধ্যমে ২৩.০২.২০১৫ তারিখে সহকারি শিক্ষক ইংরেজি পদে ফাতিমা মিতুন মুক্তা (ইনডেক্স- এন২১১৭২৯০)’কে যোগদান দিয়ে ০১.০৭.২০১৬ তারিখে এমপিওভূক্ত করানো হয়।

জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিম্নমান সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ১ জন থাকার কথা থাকলেও সেখানে ২ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সাদিয়া আফরোজ (ইনডেক্স- ৫১১৭৩২) ০১.০৬.২০০০ তারিখে যোগদান করে একই তারিখে এমপিওভূক্ত হন। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে ২০১৮ সালে মোঃ আলি হোসেন (ইনডেক্স- ০০০১৪৯৫) নামের আরেক জনকে একই পদে নিয়োগ দিয়ে ০১.০৬.২০২০ তারিখ এমপিওভুক্ত করানো হয়।

জুনিয়র মৌলভী পদে ২০১৪ সাল থেকে এনটিআরসিএ নিবন্ধন পরিক্ষা চালু হয়। জনবল কাঠামো অনুযায়ী সহকারী মৌলভী পদের নিবন্ধন দিয়ে জুনিয়র মৌলভী পদে নিয়োগের কোন সুযোগ নেই। জালিয়াতির মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটি মোঃ রুহুল আমিন (ইনডেক্স- ২১২১২৮৬)’কে সহকারী মৌলভী পদের নিবন্ধন দিয়ে ইবতেদায়ী শাখার জুনিয়র মৌলভী পদে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি জুনিয়র মৌলভী পদে ২৬.১২.২০১৬ তারিখ যোগদান করে ২১.০৭.২০১৭ তারিখে এমপিওভুক্ত হন।

অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক ইংরেজি ফাতিমা মিতুন মুক্তা ও অফিস সহকারি মোঃ আলি হোসেন অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

জুনিয়র মৌলভী মোঃ রুহুল আমিন বলেন, যখন চাকরি নিয়েছি তখন কোন নিয়ম জানতাম না। পরে শুনেছি সহকারী মৌলভী নিবন্ধন দিয়ে ইবতেদায়ী জুনিয়র মৌলভী পদে চাকরি করা যায় না। সেই হিসেবে নিয়োগটি অবৈধ।

এ বিষয়ে ছোট পাথরঘাটা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আঃ কাদের বলেন, অফিসারদের সাথে আলাপ করেই নিয়োগ দিয়েছি।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225