বিপিকেএসের জাতীয় লটারি-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) জাতীয় লটারি-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। ১০ অক্টোবর ২০২৬ রোজ, শনিবার রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণ খান এলাকায় অবস্থিত বিপিকেএস কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কারের চেক বিতরণ করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে পরিচালিত এই লটারির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, লটারির বিজয়ী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের তথ্যমতে, এবারের জাতীয় লটারিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৯৪৮টি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবদুস সাত্তার দুলাল, ইউনাইটেড ডিজঅ্যাবিলিটি রাইটস চ্যাম্পিয়ন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক নিয়ন্ত্রক কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. হুমায়ুন কবির, উপসচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়। জনাব এম গোলাম মোস্তফা, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ) এবং জনাব মো. গোলাম ফারুক মজনু, সভাপতি, সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদের (এসএসপি) । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব হাজী মো. আলম কবির, সদস্যসচিব ও প্রকল্প পরিচালক, বিপিকেএস জাতীয় লটারি। এ ছাড়া বিপিকেএসের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, অধিকার সুরক্ষা এবং স্বনির্ভরতা অর্জনে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির এসব কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে আর্থিক সহায়তার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে জাতীয় লটারি-২০২৬ আয়োজন করা হয়। গত ৩০ মে থেকে ১৭ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত লটারির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরবর্তী সময়ে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদানের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক বিতরণের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের কার্যকর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আবদুস সাত্তার দুলাল প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বিপিকেএসের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং প্রতিষ্ঠানের কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন এবং তাদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টিতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

বিপিকেএসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় লটারির প্রথম পুরস্কার হিসেবে উৎসে কর বাদ দিয়ে ২৪ (চব্বিশ) লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মহেশপুরের হানিফ মিয়াকে। তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে সাতক্ষীরার দেবহাটার মাধব মণ্ডলকে ৪০ হাজার টাকা এবং চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের কাসেম আইয়ুবকে ২০ হাজার টাকা প্রদানের কথা জানানো হয়। পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের মোছা. রোজিনা খাতুনকে ১৬ হাজার টাকার চেক প্রদানের তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম পুরস্কারের দাবিদারদের পুরস্কার ইতোমধ্যে প্রদান করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কারের অর্থ থেকে নির্ধারিত ২০ শতাংশ উৎসে কর কর্তনের পর অবশিষ্ট অর্থ চেকের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, জাতীয় লটারি আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করা এবং তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, পুনর্বাসন ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্য দূরীকরণ, তাদের অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমান অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে জাতীয় লটারি-২০২৬ সফলভাবে আয়োজন ও পুরস্কার বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, অংশগ্রহণকারী, শুভানুধ্যায়ী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণ, মানবিক মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225