ইসহাক জুয়েল:
বরগুনার বেতাগী উপজেলার করুনা হাসানিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. আরিফুর রহমান ফেরদৌসের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষকতার পাশাপাশি পল্লী চিকিৎসা পেশায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। পল্লী চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তিনি নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত থাকেন না বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও মাদ্রাসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, শিক্ষকের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজস্ব চেম্বারে রোগী দেখেন আরিফুর রহমান ফেরদৌস। ফলে তিনি নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করান না। তাঁদের মতে, একজন শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস না নিলে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা এবং শিক্ষার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
মাদ্রাসাটির দাখিল পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা। তাঁদের দাবি, ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। ২০২৬ সালের পরীক্ষায় পাস করেছে মাত্র দুজন। শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদানের ঘাটতি শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব ফেলছে বলে দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বেতাগী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিহাদ হাসান বলেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি অন্য পেশায় কাজ করার সুযোগ নেই। ওই শিক্ষক নিয়মিত মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকেন বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। এ বিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে করুনা হাসানিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. আরিফুর রহমান ফেরদৌস কথা বলতে রাজি হননি।
করুনা হাসানিয়া আলিম মাদ্রাসার সভাপতি ও বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, “শিক্ষকতার দায়িত্বে অবহেলা করে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থেকে অন্য পেশায় কাজ করার সুযোগ নেই। তিনি যদি এমনটি করে থাকেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়নে মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান হচ্ছে কি না, তা তদারকির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা তাঁদের।








Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.