রোগীর স্বজনদের স্টাফদের উপর হামলায় আহত ৫

খান নাঈম, বরগুনাঃ
হাসপাতালের বালিশ-বেডশীট নিয়ে যাওয়ার সময় বাধাঁ দেয়ায় হাসপাতালের স্টাফদের উপর হামলা চালিয়েছে রোগীর স্বজনরা। এতে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ইমারজেন্সি এ্যাটেনডেন্টসহ ৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। শুক্রবার (২০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেটের সামনে এঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল কতৃপক্ষ ও প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়, আজ বিকেল ৫ টার দিকে সদর উপজেলার বাওয়ালকর গ্রামের নান্না মিয়ার ছেলে আবু বকর (২০) গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। এসময় রোগীকে এ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর সময় হাসপাতালের স্টাফরা দেখতে পায় জরুরি বিভাগের বেডশিট ও বালিশ তারা নিয়ে যাচ্ছে। তখন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি এ্যাটেনডেন্ট ফারদিন বাঁধা দিলে রোগীর স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার উপর হামলা চালায়। তাকে উদ্ধার করতে অন্যান্য স্টাফরা এলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। এতে ফারদিন গুরুতর আহত আহত হন তার একটি দাঁত উপড়ে। এসময় স্থানীয়রা ও অন্যান্য স্টাফরা এসে ফারদিনকে উদ্ধার করে এবং চারজনকে হামলাকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এঘটনায় বরগুনা সদর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ফারদিন মৃধা বলেন, আমি বরগুনা সদর হাসপাতালে ইমারজেন্সি এ্যাটেনডেন্ট হিসাবে কর্মরত আছি। আজ দুপুর ২ টা থেকে আমি বরগুনা সদর হাসপাতালে জরুরী বিভাগে ডিউটিরত ছিলাম। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে আমি কাজ করার সময় দেখলাম এক রোগীর স্বজনরা জরুরি বিভাগের বালিশ ও বিছানার চাদর নিয়ে যাচ্ছে। আমি এতে বাঁধা দিলে জরুরি বিভাগের গেটের সামনে বসেই কয়েকজন আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। তাদের কিল ঘুষিতে আমার মাড়ির একটা দাঁত পরে যায়। আমার চিৎকার শুনে অন্য সহকর্মীরা এসে বাঁধা দিলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আমাদের আমাকে উদ্ধার করে। এসময় হামলাকারীরা আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।

এবিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, এঘটনায় ভুক্তভোগী একটি এজাহার দায়ের করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225