বাথরুম পরিষ্কার না করায় স্কুলছাত্রীকে পিটিয়ে জখম করলেন প্রধান শিক্ষক

সাইফুল রাফিন, বরগুনা:

বরগুনায় স্কুলের বাথরুম (ওয়াশ ব্লক) পরিষ্কার না করায় এক স্কুলছাত্রীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সদর উপজেলার ফুলঝুরি ইউনিয়নের রোডপাড়া শহীর স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানাজানি হলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর নাম মোসা. মারজানা (১১), তিনি রোডপাড়া শহীদ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত একই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার গাজী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) সময়মত স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা। এসময় ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের স্কুলের বাথরুম (ওয়াশ ব্লক) পরিষ্কার করার জন্য বলেন প্রধান শিক্ষক হায়দার। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বাথরুম পরিষ্কার করতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের চাপ দিতে থাকেন অভিযুক্ত শিক্ষক। একপর্যায়ে ভয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে বের হয়ে যায়। পরে তাদেরকে ধরে এনে বেধড়ক পেটায় প্রধান শিক্ষক হায়দার। তবে এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারজানার অবস্থা গুরুতর। সে ঠিকমত চলাফেরা করতেও পারছেনা। এঘটনা ওইদিনই বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মারজানার মা মাসুমা বেগম।

বিষয়টি জনসম্মুখে আসলে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে সচেতন মহলে। স্থানীয়রা জানায়, শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের শাসন করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে শাসনের নামে শারীরিক ভাবে আহত করা মানবিকতার মধ্যে পরে না। ওরা ছোট বাচ্চা, ওদের ধমক দিলেই ওরা ভয় পায়। সেখানে এরকম বেধড়ক পেটানো মোটেই কাম্য নয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে এবং স্কুলে না যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।

মারজানার মা মাসুমা বলেন, স্কুলের বাচ্চাদের বাথরুম পরিষ্কার করতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা পরিষ্কার না করে রাস্তার পাশে লুকিয়ে ছিল। পরে অন্য এক শিক্ষক বাচ্চাদের দেখে এসে হেড স্যারকে জানায়৷ হেড স্যার বাচ্চাদের ধরে এনে সবাইকে পেটায়। তবে প্রথমে আমার মেয়েকে বেধরক পেটানো হয়। স্কুল ছুটির পর মেয়ে বাসায় আসলে তার শারীরিক অবস্থা দেখে আমি সহ্য করতে পারিনি৷ ওইদিনই ইউএনও অফিসে গিয়ে অভিযোগ দেই। আমার মেয়ে এখন ঠিকমত হাঁটতে পারছে না।

ঘটনার পর থেকেই মানসিক ভাবে ভেঙে পরেছে স্কুলছাত্রী মারজানা। চোখে মুখে তার আতঙ্কের ছাপ। মারজানা বলেন, হেড স্যার আমাদের বাথরুম পরিষ্কার করতে বলেছিলো, কিন্তু বাথরুম পরিষ্কার করতে আমাদের ভালো লাগেনা তাই রাস্তার পাশে গিয়ে লুকিয়ে ছিলাম। সেখান থেকে আমাদের স্কুলে এনে অনেক পেটানো হয়৷ পরে বাসায় আসলে আমার অবস্থা দেখে আমার মা ইউএনও স্যারের কাছে গিয়ে নালিশ দেয়। আমাকেই সবচেয়ে বেশি মারছে। আমি এখন ঠিকমত হাঁটতে পারিনা।

পেটানোর বিষয়টি স্বিকার করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক হায়দার গাজী বলেন, আমি শুধু ওকে নয়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেনীর সকলকে মেরেছি, তবে সেটা বাথরুম পরিষ্কার করার জন্য নয়। ওরা ওর ঠিকমত ক্লাস করেনা এবং ক্লাসে দুষ্টুমি করে তাই ওদেরকে শাসন করেছি, সামান্য মেরেছি। এখন এ বিষয়টাকে অন্য খাতে নেয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যেভাবে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়।

এবিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা জেরীনা আকতার বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। শাসনের নামে এমন আচরণ মোটেই কাম্য নয়। আমার উর্ধতন কতৃপক্ষ বিষয়টি অবগত আছেন৷ উর্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এবিষয়ে মন্তব্য জানতে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন আরাফাত রানার ফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225