
রাকিবুল ইসলাম রাজন, বরগুনা:
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বরগুনা জেলায় দেখা গেছে মিশ্র চিত্র। সরকারি কলেজগুলো তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলেও, বেশ কিছু বেসরকারি কলেজ প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি।
জেলার মোট ১৬টি কলেজের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জিপিএ-৫ প্রাপ্তি ও পাশের হারে সরকারি কলেজগুলো স্পষ্টভাবে এগিয়ে।
বরগুনা সরকারি কলেজ এবারও জেলার শীর্ষে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৪৮ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে, যার মধ্যে ৩৮ জন জিপিএ-৫ (এ+) অর্জন করেছে। পাশের হার ও ফলাফলের মান উভয় ক্ষেত্রেই কলেজটি বরগুনায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
এছাড়া বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজও এ বছর ভালো ফল করেছে। কলেজটি থেকে ৩৩১ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে, যার মধ্যে ১২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
আমতলী সরকারি কলেজ থেকেও প্রশংসনীয় ফলাফল এসেছে ৩৩৮ জন পাস করেছে, যার মধ্যে ২৮ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
পাশের হারের দিক থেকে বামনা মহিলা কলেজ ও পাথরঘাটা মহিলা কলেজ উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।
বামনা মহিলা কলেজে ৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৬ জন পাস করেছে এবং ২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
পাথরঘাটা মহিলা কলেজে ১১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে, জেলার কয়েকটি কলেজে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও, ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। বেশ কয়েকটি কলেজে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাস করা শিক্ষার্থীর চেয়ে বেশি।
বরগুনা আইডিয়াল কলেজে ১২৩ জন ফেল করেছে, পাস করেছে মাত্র ৫৭ জন, জিপিএ-৫ শূন্য।
বালিয়াতলী ডি.এন. কলেজে ১২৬ জন ফেল করেছে, পাস করেছে ৬২ জন, জিপিএ-৫ মাত্র ১টি।
বেতাগী সরকারি কলেজে ৩৮৮ জন ফেল করেছে, পাস করেছে ১৮৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭টি।
হলতা ডৌয়াতলা কলেজে ১৩২ জন ফেল করেছে, পাস করেছে ৭২ জন।
এই বৈষম্য জেলার শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
তাদের মতে, সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষকের সংখ্যা, পরিকাঠামো ও শিক্ষাসামগ্রী পর্যাপ্ত থাকলেও, অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এসব সুবিধার ঘাটতি রয়েছে, যা সরাসরি ফলাফলে প্রভাব ফেলছে।






