,

সরকারি বরাদ্ধের পূর্বেই অতিরিক্ত মূল্যে টিসিবি পন্য বিক্রি

সাইফুল ইসলাম রাফিন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরগুনার আমতলী উপজেলায় কয়েকটি ইউনিয়নে টিসিবির পন্য বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ডিলারের নাম মো. বাদল, তিনি মেসার্স বাদল স্টোরের সত্বাধিকারী। তিনি পুরো আমতলী উপজেলার টিসিবির পন্য বিক্রির দায়িত্বে আছেন।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, ডিলার ও গ্রাহকের সুবিধার্থে টিসিবির পন্য বিশেষ করে চালের ব্যাগ বাবদ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১০ টাকা অতিরিক্ত নেয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো গ্রাহক যদি চাল না নেয় তাহলে এই অতিরিক্ত ১০ টাকা নিতে পারবে না ডিলার। শুধুমাত্র আমতলী উপজেলা ব্যাতীত জেলার অন্য ৫ টি উপজেলায় কোনো ডিলারই অতিরিক্ত টাকা নেয়না বলে জানা যায়। তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যেই পণ্য বিক্রি করছেন৷

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেসার্স বাদল স্টোরের সত্বাধিকারী সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে নির্ধারিত সময়ের আগে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে পন্য বিক্রি করেছে। এছাড়াও চাল ছাড়া প্যাকেজ বিক্রি, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি মূল্য রাখার অভিযোগও রয়েছে এই ডিলারের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়নের বেশকয়েকজন টিসিবি কার্ডধারী গ্রাহকের সাথে কথা বলে জানা যায়, হলদিয়া ইউনিয়নে টিসিবির ১৬৩২ জন কার্ডধারী গ্রাহক রয়েছে। এই ইউনিয়নে টিসিবি পন্য বিক্রির দায়িত্বে আছে মেসার্স বাদল স্টোর। তবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে চাল ছাড়াই প্যাকেজ বিক্রি করা হয়। এমনকি চাল ছাড়াও প্রতি প্যাকেজে ১০ টাকা বেশি করে রাখা হয়েছে। চাল ছাড়া প্রতি প্যাকেজের সরকার নির্ধারিত মূল্য ৩৯০ টাকা। কিন্তু গত ২/৩ বছর যাবৎ তিনি চাল ছাড়া ৪০০ টাকা করে প্যাকেজ বিক্রি করছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, টিসিবির কার্ডধারীরা চাল ছাড়া পন্য দিলেও কার্ডে তাদের চাল সহ বিক্রি হয়েছে বলেই গন্য করা হয়। এখানে অতিরিক্ত চালগুলো বেশি দামে কালোবাজারির মাধ্যমে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে ডিলারের বিরুদ্ধে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী চিন্ময় রায় জানায়, আমিও শুনেছি হলদিয়া ইউনিয়নে ১৫ অক্টোবর টিসিবির পন্য বিক্রি করেছে ডিলার। পণ্য বিক্রি করার জন্য নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে কার্ড স্কানের এ্যাপ ওপেন করা হয়। অফিস এখন পর্যন্ত ওই ইউনিয়নের এ্যাপ ওপেন করেনি। আমাদের অফিসকে না জানিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি পণ্য বিক্রি করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী ওই ডিলার ২০ তারিখ পণ্য পাবে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯ অক্টোবর হলদিয়া ইউনিয়নে টিসিবির পন্যের জন্য বরগুনা সোনালী ব্যাংকে টাকা জমা দেবে ডিলার। এর পরদিন বরগুনা গোডাউন থেকে পণ্য দেয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায় গুলিশাখালী ইউনিয়নে গত ১৬ অক্টোবর দুটি স্পটে ৯৩৫ জন টিসিবির কার্ডধারীর কাছে পন্য বিক্রি করা হয়। যেসকল কার্ডধারী চাল ছাড়া পন্য নিয়েছেন তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ টাকা করে নিয়েছে অভিযুক্ত ডিলার। বেশ কয়েকজনের পন্য ওজন করে দেখা যায় ১ কেজি চিনিতে ১২-১৫ গ্রাম কম, ২ কেজি ডালে ৫০-৬০ গ্রাম কম, ৫ কেজি চালে ১০০-১৫০ গ্রাম কম। কিন্তু একাধিক চালের ডিলারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিমাসে টিসিবির ডিলারকে চাল সরবরাহ করে তারা।

অভিযোগের ব্যাপারে মেসার্স বাদল স্টোরের সত্বাধিকারী মো. বাদল মিয়া বলেন, হলদিয়া ইউনিয়নের পন্য ২০ তারিখে পাবো এবং তারপর বিক্রি করবো। আমার কাছে অবিক্রিত পন্য ছিলো, আমার আর্থিক সমস্যার কারণে অনিয়ম করে ১৫ তারিখে হলদিয়া ইউনিয়নে পন্য বিক্রি করেছি। বিষয়টি আমতলী ইউএনও অফিস এবং বরগুনা ডিসি অফিসের অনুমতি নেইনি। গ্রাহকের কার্ডগুলো আমি সাথে নিয়ে এসেছি, এগুলো পরে স্কান করবো।

এবিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অনিয়ম করে টিসিবির পন্য বিক্রির কোনো উপায় নেই। এবিষয়টি তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225