
আবুল হাসান, বরগুনাঃ
বরগুনার আমতলী উপজেলার চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মো. রফিকুল ইসলামকে যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মোল্লা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়ার ঘটনায় আমতলী থানায় এজাহার মামলা করে ভুক্তভোগী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় ২ জন আসামি গ্রেফতার ও শিক্ষকের মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৩ নং আসামি তোতা মিয়ার স্ত্রী চায়না আক্তার (৩৫) মেয়ে দ্বারা আদালতে যৌন হয়রানির মামলা দায়ের করে।
জানা যায়, শিক্ষক অপহরণ করে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগে যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মোল্লা সহ ৭-৮ জন সন্ত্রাসী। এ সময়ে সন্ত্রাসীরা শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন আরও তীব্রতায় রুপ নেয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা শিক্ষকের ল্যাপটপ, মোটরসাইকেল ও পিন নম্বর সহ এটিএম কার্ড নিয়ে যায়। কার্ডে ৮১ হাজার টাকা ছিলো। এ ঘটনায় শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার ৩ নাম্বার আসামি পঁচাকোড়ালীয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়ি এলাকার কালাম তালুকদারের ছেলে তোতা মিয়া এবং এটিএম কার্ড থেকে টাকা উত্তোলন কারী ৪ নং আসামি আমতলী উপজেলার ঘোপখালী গ্রামের সেলিম তালুকদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিকে শিক্ষক অপহরণের ঘটনার বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেন আমতলী শিক্ষক সমিতি। সেখানে অভিযুক্তদের আত্মীয় এবং তালতলী উপজেলার পচাকোড়ালীয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কক তালুকদার বাঁধা দিতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে উত্তমমধ্যম দেয়। ওই সময়ে তার ছেলে চ্যানেল এস এর সাংবাদিক এ সকল শিক্ষকদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। তাৎক্ষণিক আমতলী শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়।
অপর দিকে শিক্ষক রফিকুল ইসলামের অপহরণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে অপহরণ মামলায় কারাগারে থাকা আসামি তোতা মিয়ার স্ত্রী চায়না আক্তার। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাসকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। এ ঘটনায় বরগুনা জেলা জুড়ে নিন্দার ঝড় বইতে থাকে। সচেতন মহলের দাবী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করা হোক।






