পুলিশ কর্মকর্তার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

হাফিজুর রহমান খান, বরগুনাঃ
বরগুনার আমতলী উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে জহিরুল সিকদার হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীকে আসামি না করতে বাদীকে পুলিশ কর্মকর্তা হুমকি দিয়েছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) সাইদুর রহমান। এই ঘটনায় পরিকল্পনাকারীকে আসামি করা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার শাস্তির দাবিতে সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।

নিহত জহিরুল সিকদারের স্ত্রী নুপুর বেগম অভিযোগ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ফারুক হোসেন জাকিরকে আসামি না করতে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের ফরিদ সিকদারের সঙ্গে তার ভাই মুনসুর সিকদারের ১০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদ সিকদার ওই জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে মুনসুর সিকদার একটি ছুরি নিয়ে তাকে ধাওয়া করেন। এ সময় ফরিদের চিৎকার শুনে চাচাতো ভাই জহিরুল সিকদার ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে মুনসুর সিকদার জহিরুল সিকদারের পেটে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মুনসুর সিকদারের ছেলে ফারুক হোসেন জাকির এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। তার পরিকল্পনাতেই মুনসুর সিকদার জহিরুল সিকদারকে হত্যা করেছেন। ঘটনার পরপরই ফারুক হোসেন জাকির পলাতক রয়েছেন।

নুপুর বেগম আরও বলেন, শনিবার বিকেলে তিনি আমতলী থানায় মামলা করতে গেলে ওসি (তদন্ত) সাইদুর রহমান তাকে পরিকল্পনাকারী ফারুক হোসেন জাকিরকে আসামি না করতে চাপ দেন এবং আপসের প্রস্তাব দেন। তিনি রাজি না হওয়ায় মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে উত্তর তক্তাবুনিয়া এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হাবিবা, পপি বেগম, নুরুননাহার, আম্বিয়া বেগম, আমিরুল খান, মোস্তফা গাজীসহ স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ ঘটনার পর মুনসুর সিকদার ও তার স্ত্রী শেফালী বেগমকে গ্রেপ্তার করে রবিবার বিকেলে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। বিচারক মো. ইফতি হাসান ইমরান তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে মামলায় শুধু দুজনকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো. সাইদুর রহমান বলেন, সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তদন্তে আরও কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225