আমতলী ভুমি অফিসের ড্রাইভার ও তার স্ত্রীর নামে প্রবাহমান খালের জমি বন্দোবস্ত, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

হাফিজুর রহমান খান, বরগুনা:
বরগুনার আমতলী উপজেলায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ভুমি অফিসের এক ড্রাইভার ও তার স্ত্রীর নামে প্রবাহমান খালের জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাব খাটিয়ে খালের জমিকে খাল-নাল হিসেবে দেখিয়ে বেআইনিভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালীবাড়ী এলাকায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে কালীবাড়ী প্রবাহমান খালের মধ্যে ৩০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয় আমতলী ভুমি অফিসের ড্রাইভার মো. সোহেল ও তার স্ত্রী সানিয়া আক্তারের নামে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে অভিযুক্ত সোহেল তার লোকজন নিয়ে খালের ভেতরে পাইলিং কাজ শুরু করলে এলাকাবাসী বাধা দেয়। স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধের মুখে কাজ বন্ধ করে সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয় তারা।

এ ঘটনার পরপরই কয়েকশ নারী-পুরুষ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে খালের জমির বন্দোবস্ত বাতিলের দাবি জানান।

তথ্য অনুযায়ী, বন্দোবস্ত কেস নং ৬০/২০১৯-২০২০ এর মাধ্যমে উপজেলা খাসজমি বন্দোবস্ত কমিটি কালীবাড়ী প্রবাহমান খালের মধ্যে ৩০ শতাংশ খাল-নাল জমি দেখিয়ে মো. সোহেল পিতা- আব্দুর রহিম ও তার স্ত্রী সানিয়া আক্তারের নামে বন্দোবস্ত অনুমোদন দেয় এবং তা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে জেলা খাসজমি বন্দোবস্ত কমিটি উপজেলা কমিটির সুপারিশ ও অনুমোদনের ভিত্তিতে উক্ত জমির বরাদ্দ চূড়ান্ত করে।

ভুক্তভোগী মো. মোমেন আকন বলেন, এই কালীবাড়ী খাল প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ। খালের দুই পাড়ের দুই শতাধিক পরিবার দৈনন্দিন ব্যবহার ও কৃষি সেচের জন্য এ খালের ওপর নির্ভরশীল। শত শত একর কৃষিজমিতে এই খালের পানি ব্যবহার হয়। অথচ খালের মুখে ৩০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল একজন কর্মচারী কীভাবে প্রবাহমান খালের জমি নিজের নামে নিতে পারে? এই প্রশ্নই এখন এলাকাবাসীর।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী কার্যালয় থেকে নেমে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন। তিনি তদন্তের আশ্বাস দেন।

বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন চাওড়া ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি মো. মোমেন আকন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাকিবুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিয়াজ, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন মিরাজসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, বন্দোবস্ত প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225