চাঁদা না দেওয়ায় সাংবাদিককে হত্যার হুমকি ও হামলার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন, এসআরবি-৩কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁদা দাবি, হত্যার হুমকি, অতর্কিত হামলা ও গুরুতর জখমের অভিযোগে মো. সুজন আহমেদসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও বাংলাদেশ মেধা বিকাশ সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম আনোয়ার হোসেন অপু। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৩ (এসআরবি-৩)-কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের রিসিভ কপিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের গ্রহণের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গেছে।

লিখিত আবেদনে এস এম আনোয়ার হোসেন অপু উল্লেখ করেন, গত ৩ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা থেকে ৬টা ২০ মিনিটের মধ্যে রাজধানীর পল্টন মডেল থানাধীন ১২ পুরানা পল্টনের মল্লিক কমপ্লেক্সের নিচে অবস্থানকালে মো. সুজন আহমেদ (৪১), পিতা মোবারক হোসেন, মাতা হালিমা বেগম, বর্তমান ঠিকানা ২৯, লালচাঁন মুকিম লেন, থানা ওয়ারী, ঢাকা এবং তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন ব্যক্তি পূর্ববিরোধের জের ধরে তার ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা দাবি করেন।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় মো. সুজন আহমেদ তাকে হত্যার হুমকি দেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনকারী আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে চাঁদা না দেওয়ায় অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুনরায় ঘটনাস্থলে এসে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সহযোগীসহ তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় লোহার রড ও ২০ লিটারের পানির বোতল দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার মাথা, মুখ ও পিঠের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম ও আঘাতের সৃষ্টি হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি মুগদা হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও জিডির তথ্য
আবেদনে মো. সুজন আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দায়ের হওয়া মামলা ও সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা নং-২৫৭/২৪ এবং দক্ষিণখান থানার মামলা নং-৫(০৪)২৪, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আবেদনকারীর দাবি, পল্টন মডেল থানায় মো. সুজন আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/ ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় মামলার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট জিডিও রয়েছে। এসব মামলা ও অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা সংশ্লিষ্ট থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগে দক্ষিণখান থানায় ধর্ষণ মামলা নং-১৭, তারিখ ১৬/০৩/২০২৬ এবং শাহজাহানপুর থানায় মাদক মামলা নং-৩২, তারিখ ২৮/০৮/২০১৯-এর তথ্যও আবেদনকারীর জানা রয়েছে। এসব তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবর দেওয়া আবেদনে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত। অভিযুক্ত ও তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে এসআরবি-৩কে নির্দেশনা প্রদান। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে হামলা, ভয়ভীতি ও হুমকির আশঙ্কা বিবেচনায় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আবেদনকারী বলেন, একজন সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি, হত্যার হুমকি ও সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ শুধু তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও উদ্বেগের বিষয়। তাই তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্যায় আচরণ বা হয়রানি করা তার উদ্দেশ্য নয়। বরং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই তার প্রত্যাশা।

আবেদনের সঙ্গে তার চিকিৎসা গ্রহণের কাগজপত্র, মামলার প্রাসঙ্গিক নথি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225