,

বরগুনায় প্রতারনার নতুন ফাদ একাধিক বিয়ে: অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ

হাফিজুর রহমান, বরগুনা:
আমতলী উপজেলার চন্দ্রা গ্রামের হাসিনা বেগম নামের এক নারীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ের নামে প্রতারনা করে অর্ধ কোটি টাকা ও জমি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার ভুক্তভোগী তৃতীয় স্বামী অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আবু হানিফ হাওলাদার ও প্রথম স্বামী সোলায়মান সরকার এমন অভিযোগ করেছেন। তৃতীয় স্বামীকে তালাক না দিয়ে আবার বিয়ে করেছেন। হাসিনার এমন কর্মকান্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী তাকে আইনের আওতায় এনে পুলিশ প্রশাসনকে শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

জানাগেছে, ২০০০ সালে আমতলী উপজেলার চন্দ্রা গ্রামের রফিকুল ইসলাম পন্ডিতের মেয়ে হাসিনা আক্তারকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সোলায়মান সরকারের সঙ্গে বিয়ে দেয়। বিয়ের এক বছর পরে সোলায়মান চন্দ্রা কারিগড়ি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ৫৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে বাড়ী নির্মাণ করেছেন। স্বামী ঢাকায় কর্মরত থাকায় হাসিনা একাধিক পুরুষের সঙ্গে পরকিয়ার জড়িয়ে পরেন এমন অভিযোগ স্বামী সোলায়মানের। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্ধ হয়। ২০১৬ সালে স্বামীকে মারধর করে পুরো জমি ও বাড়ী তার নামে দলিল করে নেন। ২০১৮ সালে স্বামী সোলায়মানকে তালাক দেন হাসিনা। ওই দম্পতির ঘরে দুইটি সন্তান ছিল। তাকে তালাক দেয়ার পরে তিনি অবাধে অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরেন। মায়ের এমন অনৈতিক কর্মকান্ডের বাঁধা হয়ে দাড়ায় তার মেয়ে মারিয়া। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ৮ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা মেয়ে মারিয়া মায়ের এমন অনৈতিক কাজে বাঁধা দেয়। পরে ওইদিন মেয়েকে তিনি হত্যা করে গলায় রশি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয় এমন অভিযোগ জামাতা ইমরান হাওলাদারের। ২০২২ সালে ডিসেম্বরে হাসিনা তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া দারুসুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেনকে বিয়ে করেন। বিয়ের ৮ মাস পরে আবুল হোসেন মারা যায়। অসুস্থ্যতার সুযোগে চিকিৎসার নামে স্বামীর অন্তত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি এমন অভিযোগ মৃত্যু আবুল হোসেনের বড় ভাই আমির হোসেনের। ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মৃত্যু দ্বিতীয় স্বামীর বন্ধু অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আবু হানিফ হাওলাদারকে কাবিন ছাড়া তৃতীয় বিয়ে করেন। গত দুই বছর তার সঙ্গে সংসার করেছেন হাসিনা। ওই সময়ে কৌশলে তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এমন অভিযোগ তৃতীয় স্বামী আবু হানিফের। তাকে তালাক না দিয়েই গত রবিবার হাসিনা ঘটখালী এলাকার জহিরুল নামের একজনকে চতুর্থ বিয়ে করেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। ২০১৪ সালের চাওড়া কারিগড়ি কলেজের এক ছাত্রীকে হাসিনা তার ঘরে ডেকে নেন। পরে তার চাচাতো ভাই হাবিব পন্ডিত তার সহযোগীতায় ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। এতে ওই ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পরিবার হাবিবের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা করে। কিন্তু সুকৌশলে হাসিনা আসামী না হয়ে মামলার প্রধান স্বাক্ষী হন। এলাকার একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে চাকুরী দেয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী রিনা ও মলি বেগম এমন অভিযোগ করেছেন।

হাসিনার ফুফু সেলিনা বেগম বলেন, আবু হানিফ নামের অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুল শিক্ষককে বিয়ে করে হাসিনা দুই বছর সংসার করেছে। এখন আবার জহিরুল নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছে। তিনি আরো বলেন, হাসিনা এ পর্যন্ত চারটি বিয়ে করেছে। আগের তিন স্বামীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে অনেক জমি ও বাড়ী করেছেন।

হাসিনার প্রথম স্বামী সোলায়মান সরকার বলেন, আমার ৫৫ শতাংশ জমি ও বাড়ী আমাকে মারধর করে জোরপুর্বক দলিল করে নিয়েছে হাসিনা। তিনি আরো বলেন, হাসিনার অনৈতিক কাজের বাঁধা দেয়ায় আমার আট মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করে গলায় রশি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ঘটনা ধামাচাপা দেয়। তিনি আরো বলেন, আমাকে তালাক না দিয়েই হাসিনা একাধিক বিয়ে করেছেন। আমি প্রতারক হাসিনার শাস্তি দাবী করছি।

তৃতীয় স্বামী আবু হানিফ হাওলাদার বলেন, প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে আমাকে বিয়ে করে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন আমাকে তালাক না দিয়ে আরেকটি ছেলেকে বিয়ে করেছে। আমি প্রতারক হাসিনার শাস্তি দাবী করছি।

চতুর্থ স্বামী জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি হাসিনাকে শরীয়ত মতে বিয়ে করেছি।

হাসিনা বেগম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আবু হানিফ হাওলাদারকে তালাক দিয়েই আবার বিয়ে করেছি।

আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, অভিযোগ পেলে সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225