বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনায় পৈত্রিক ও দখলীয় সম্পত্তি দখলের অভিযোগ তুলে আপন দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের লাকুরতলা গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেন খানের ছেলে মোঃ সুলতান খানের দাদা ও বাবার মৃত্যুর পর রেজিস্ট্রি দলিল অনুযায়ী জমি বন্টন হলেও এজমালী সম্পত্তি বন্টনের বিষয়টি বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে মামলাধীন (বন্টন মামলা) রয়েছে। কিন্তু এই আইনি প্রক্রিয়া চলা অবস্থাতেই তার আপন দুই ভাই আইন অমান্য করে পৈত্রিক ও ভোগদখলীয় সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুলতান খান জানান, তিনি তার পরিবারসহ দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। এই সুযোগে ২০২৫ সালে বরগুনার সোনালী পাড়ায় তার নিজ বাসভবনের তালা ভেঙে লুটপাট চালানো হয়। দেশে ফিরে তিনি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বরগুনা সদর থানায় আইনি পদক্ষেপ নেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এছাড়া বরগুনা নতুন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা ভবনের উত্তর পাশে দাদা এন্তাজ খানের ওয়ারিশদের ৫.০৫ একর জমির মধ্যে সুলতান খান ৪২.৮০ শতাংশ জমি প্রাপ্ত হন। বরগুনা সদর থানার মধ্যস্থতায় আপোষ-মীমাংসার পর সেখানে একটি ৩০ ফুট বাই ২০ ফুট সেমিপাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ এবং ২৮টি পিলার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানকালে দুই ভাই ওই ঘরের অর্ধেক ভেঙে ফেলে এবং সীমানা পিলার উপড়ে ফেলে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। নতুন বাসস্ট্যান্ডের বিদ্যুৎ পাওয়ার প্ল্যান্ট অফিসের সামনের ১১৪ শতাংশ জমিতেও তাকে স্বাভাবিক পরিমাপ ও ভোগদখলে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সুলতান খান আরও অভিযোগ করেন, তার বাবা-মায়ের সরলতার সুযোগ নিয়ে এবং কূটকৌশল অবলম্বন করে দুই ভাই মূল্যবান বেশ কিছু জমি নিজেদের নামে লিখিয়ে নেন। শুধু তাই নয়, ২০১৫ সালে সন্তানদের পড়াশোনার কাজে বিদেশে পাঠানোর সময় মায়ের কাছ থেকে একটি স্বাক্ষরিত চেক বই ভুল বুঝিয়ে হাতিয়ে নেন তারা। পরবর্তীতে সেই চেক দিয়ে সুলতান খানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, যা পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তিকৃত হয়।
সুলতান খানের দাবি, তার দুই ভাই এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা করেছেন। এছাড়া তাদের বংশের ও দাদার ওয়ারিশদের নামে ফৌজদারি ৮টি ও দেওয়ানি ৩টি মামলা দিয়ে অব্যাহতভাবে হয়রানি করে যাচ্ছেন। এমনকি গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বরগুনা সদর থানায় মোঃ মহিউদ্দিন খান বাদল বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা (জিআর ৪০৫/২০২৬) দায়ের করেন, যেটিতে সুলতান খানসহ অন্যরা বর্তমানে মহামান্য হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিনে আছেন।
আপন দুই সহোদরের লাগাতার নির্যাতন, সম্পত্তি দখল এবং আইনি হয়রানিতে পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে সুলতান খান আকুল আবেদন জানান। তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও বিচার বিভাগের নিকট দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং পৈত্রিক ও প্রাপ্ত সম্পত্তির সুষ্ঠু ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন তিনি।








Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.