এক কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজ জামিনে

বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনায় এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বাদীর উপস্থিতিতে জামিন শুনানি শেষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

আসাদ সবুজকে গত ১ অক্টোবর রাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মামলায় আসাদ সবুজসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (৪ অক্টোবর) আসাদ সবুজের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। পরে আদালত শুনানির জন্য মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিন ধার্য করেন। পরবর্তী সময়ে বাদীর উপস্থিতিতে শুনানি শেষে বুধবার তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হয়।

মামলার শুনানিতে আসাদ সবুজের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল ওয়াসী মতিন উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর হাতে হ্যান্ডকাফ পরানোর ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তা হলেন এসআই হারুন অর রশিদ।

বরগুনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, হ্যান্ডকাফ পরানোর ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আসাদ সবুজের স্বজন ও সহকর্মীদের অভিযোগ, তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় পেছনে হাতকড়া পরিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে করা মামলাটি ‘হয়রানিমূলক ও সাজানো’ বলে দাবি করেছেন তাঁর পরিবার ও সহকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার বাদী স্বপন কুমার ঘোষ। তাঁর দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং সে কারণেই মামলা করা হয়েছে।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগ ও এর পেছনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।

জামিন পাওয়ার পর আসাদ সবুজের পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তে তাঁরা সন্তুষ্ট। মামলাটি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, মামলার তদন্ত স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। তদন্তে যেসব তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225