,

আমতলীতে সড়কে নির্মাণ সামগ্রী চলাচলে ভোগান্তি

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।

আমতলী পৌরসভা কার্যালয়ের সামনের সড়কে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। সড়ক জুড়ে নির্মাণ সামগ্রী রাখায় যানবাহন ও ১৫ হাজার মানুষের চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। দ্রুত এ নির্মাণ সামগ্রী অপসারণের দাবী ভুক্তভোগীদের।

জানাগেছে, গত বছর জুলাই মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ণে আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রিয় লেকে সৌন্দর্য্য বর্ধণে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা বরাদ্দ হয়। মেসার্স ইসলাম ব্রাদার্স লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই কাজ পায়। শুরুতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পৌরসভা কার্যালয়ের সামনের সড়কে নির্মাণ সামগ্রী রেখে কাজ শুরু করেন। ওই সময় থেকেই যানবাহন ও মানুষের চলাচলে ভোগান্তির শিকার হয়। গত দুই মাস ধরে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ওই প্রকল্পের নির্মাণ সামগ্রী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়কে ফেলে রাখে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন , গত দুই মাস ধরে লেকের কাজ বন্ধ কিন্তু সড়কে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার। এ সড়ক দিয়ে একে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একে সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, পৌরসভা কার্যালয়ে সেবা গৃহিতা ও পৌর শহরে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করছে। নির্মাণ সামগ্রী সড়ক ফেলে রাখায় যানবাহন ও মানুষ চলাচলে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। দ্রুত সড়ক জুড়ে ফেলে রাখা নির্মাণ সামগ্রী অপসারণের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, সড়কের বেশীর ভাগ স্থান জুড়ে নির্মাণ সামগ্রী বালু ও পাথর স্তুপ করে রাখা হয়েছে। বালু ও পাথর সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।

ব্যাটারীচালিত অটোরিক্সা চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, সড়কে নির্মাণ সামগ্রী রেখে দেয়ায় গাড়ী চালাতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় পাথর গাড়ীর চাকার নিচে পড়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। দ্রুত সড়ক থেকে নির্মাণ সামগ্রী অপসারণের দাবী জানান তিনি।

মাহেন্দ্র চালক সোলায়মান বলেন, সড়কে বালু ও পাথর ফেলে রাখায় গাড়ী নিয়ে দ্রুত চলাচল করতে ভয় লাগে। গত দুই মাস ধরেই এমনভাবে চলে আসছি। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ দেখে না দেখার ভান করছে।

পথচারী সোহেল, রিপন ও শিবলী শরীফ বলেন, সড়কে বালু ও পাথর স্তুপ করে রাখায় গাড়ী ও মানুষ চলাচলে বেশ সমস্যা হচ্ছে। যেহেতু কাজ বন্ধ সেহেতু নির্র্মাণ সামগ্রী অপসারণ করে রাখাই ভালো। পৌরসভার কেন্দ্রিয় লেক সৌন্দর্য্য বর্ধণ প্রকল্পের সদস্য সচিব রুবেল খাঁন বলেন, কাজ বন্ধ থাকায় বেশ কিছু নির্মাণ সামগ্রী ছিল সড়কের পাশে রাখা ছিল।

প্রকল্পের রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর এএসএম আবুল কালাম বলেন, প্রজেক্টের জায়গা না থাকায় নির্মাণ সামগ্রী সড়কের পাশে রাখা ছিল।  ওই নির্মাণ সামগ্রীগুলো দ্রুত সরিয়ে নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোঃ রোকনুজ্জামান খাঁন বলেন, মানুষের ভোগান্তি দিয়ে কোন কাজ করা যাবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সড়ক নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225