,

বরগুনার পাথরঘাটায় ট্রলারসহ ১০ লাখ টাকার মাছ লুট জেলেদের ওপর হামলা

 

হাফিজুর রহমান, বরগুনাঃ
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকায় একটি মাছ ধরার ট্রলারসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ লুট করেছে সশস্ত্র একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় জেলেদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে চরদুয়ানী পল্টন মৎস্যবাজারের পাশের খালে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন পাথরঘাটা থানার উপ পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ট্রলারের মালিক মাহাবুব হাওলাদার (৬০), পিতা আব্দুস ছালাম হাওলাদার, ছোট মাচুয়া, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর এবং পাথরঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর মালিকানাধীন এফবি খানজাহান নামের ট্রলারটি ৯-১০ দিন আগে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরা শেষে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে ট্রলারটি সোমবার দুপুরে চরদুয়ানী খালে পৌঁছালে স্থানীয় জাকির বিশ্বাসের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র, রামদা, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ট্রলারে উঠে হামলা চালায়।

ট্রলারে থাকা জেলেদের এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। কেউ কেউ নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণে বাঁচে, আবার কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে ট্রলারসহ দক্ষিণ চরদুয়ানী বলেশ্বর নদী দিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ট্রলারের জাল, দড়ি, অন্যান্য মালপত্র এবং মাছও নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে জেলেরা ট্রলার মালিক মাহাবুবকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন। কিন্তু চেষ্টা করেও এখনো ট্রলারটি উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে পাথরঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরে পাথরঘাটা থানা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে ট্রলারটি উদ্ধার করা হয় কিন্তু সেখানে মাত্র তিন হাজার টাকার মাছ পাওয়া যায়। চরদুয়ানী বাজার টলে তা বিক্রি করা হয়।

ট্রলারটি স্থানীয় গ্রাম পুলিশকে প্রধান করে গণ্যমান্য ৫ ব্যক্তির জিম্মায় রাখা হয়।

অভিযোগে নাম উল্লেখ করা হয়েছে মো. জাকির বিশ্বাস (৫৫), পিতা আ. মন্নান বিশ্বাস, মাতা মোসা. সালেহা বেগম, দক্ষিণ চরদুয়ানী, পাথরঘাটা, বরগুনা সহ আরও অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন মো. ইকবাল, মো. আছাদুল, মো. সাব্বির, মো. জাকির, মো. নাজমুল, মো. মনির ও মো. আল-আমিন আকনসহ আরও কয়েকজন। তারা জানান এমন ঘটনায় আমরা হতবাক হয়েছি। এলাকার জেলেরা আতঙ্কে দিন অতিবাহিত করছেন।

এদিকে অভিযুক্ত জাকির বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই ট্রলার আমার ছিল। ১৭ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি এখনো কিছু টাকা বাকি রয়েছে যার কারনে আমার ট্রলার আমি নিয়ে এসেছি।

পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। ট্রলার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, এ ধরনের সশস্ত্র লুটের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গেছে। এতে উপকূলের জেলেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান তারা। চরদুয়ানী মৎস্য ঘাটে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225