, ,

নিয়ম বহির্ভূত নিয়োগ নিয়ে বহাল তবিয়তে শিক্ষিকা

খান নাঈম, বরগুনা:
বরগুনার তালতলীতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিয়োগ নিয়ে চাকরি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকার নাম মোসা. আমেনা পারভিন। তিনি তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া এতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষিকা পদে কর্মরত আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে কড়ইবাড়িয়া এতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় আমেনা পারীভন সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষিকা পদে নিয়োগ পেয়ে যোগদান করেন৷ সেখানে প্রায় সাড়ে ৬ বছর কর্মরত থেকে ২০১১ সালে একই উপজেলার ছোটবগী পি.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা (কম্পিউটার) পদে যোগদান করেন। এরপর গত ২০২০ সালে আমেনা পারভীন (ইনডেক্স নম্বর- M0006168) পুনরায় তিনি কড়্ইবাড়িয়া এতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় যোগদান করে বেতনভাতা চালু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সহকারী শিক্ষিকা আমেনা পারভিন একবার কড়ইবাড়িয়া এতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে চাকরী ছেড়ে দিয়ে প্রায় ৯বছর পরে আবারো সম্পুর্ন নিয়ম বহির্ভূতভাবে একই মাদ্রাসায় যোগদান করেন। এমনকি কোনো নিয়োগ কার্যক্রম ছাড়াই ওই শিক্ষিকা দ্বিতীয়বার ওই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী তারিখে কড়ইবাড়িয়া এতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষিকা পদে নিয়োগ পান আমেনা পারভিন এবং ২০ ফেব্রুয়ারী যোগদান করেন৷ সেখানে তিনি ২০০৫ সাল থেকে ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ার কারনে অভিযুক্ত আমেনা পারভিন ২০১১ সালের ২৯ জুন তালতলী উপজেলার ছোটবগী পি.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা (কম্পিউটার) পদে যোগদান করেন।

এরপর আগের প্রতিষ্ঠান কড়ইবাড়িয়া এতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসাটি এমপিও ভুক্ত হলে ২০২০ সালের ৩০ মে পি.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে স্বেচ্ছায় অব্যহতি নিয়ে একই বছর ১লা জুন পুনরায় কড়ইবাড়িয়া এতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় যোগদান করেন তিনি। যেটি পুরোপুরি নিয়ম বহির্ভূত। কারণ ২০১৬ সাল থেকে সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি এনটিআরসি পরিচালনা করে আসছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, আমেনা পারভিন আগে এতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা পদে কর্মরত ছিলেন। বেতন না হওয়ার কারণে সেখান থেকে তিনি পি.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা পদে ভুয়া নিবন্ধন সার্টিফিকেট বানিয়ে চাকরি নেন। পরে ২০২০ সালে আবারো সে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কড়ইবাড়িয়া এতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় যোগদান করেন। ছোটবগী পি.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তার সর্বশেষ বেতন স্কেল ছিলো ১৬ হাজার টাকা, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে তিনি আবার ১২ হাজার টাকা স্কেলে কড়ইবাড়িয়া এতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় চাকরি শুরু করেন। আমাদের ধারণা তার অপকর্ম ধরা পরার ভয়ে সে কম বেতনে হলেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চাকরী ছেড়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাদ্রাসায় যোগদান করেছেন।

বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনধারী শিক্ষকেদর তথ্য চায় এনটিআরসিএ। সেখানে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাশাপাশি ছোটবগী পি.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষদের তথ্য দেয়া হয়। কিন্তু সেই তালিকায় চারজন নিবন্ধনধারী শিক্ষকের পুর্নাঙ্গ তথ্য থাকলেও অভিযুক্ত আমেনা পারভিনের তথ্য দেয়া নেই।

এবিষয়ে ছোটবগী পি.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ শিকদার বলেন, আমেনা পারভিন যোগদান থেকে অব্যহতি দেয়া পর্যন্ত নিয়মিত চাকরি করেছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী তিনি বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন৷ আমার স্কুলে চাকরি কালীন সময়ে তিনি অন্য কোথাও চাকরি করেননি। একই ব্যাক্তি একই সাথে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। এনটিআরসিএ’র তালিকায় চার সহকারী শিক্ষকের তথ্য দিলেও আমেনা পারভিনের তথ্য কেন দেয়া হয়নি প্রশ্নে দিনি বলেন তা আমার স্বরণ ছিলনা।

ছোটবগী পি.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ শিকদার এর কাছে বার বার অভিযুক্ত আমেনা পারভীনের (ইনডেক্স নম্বর- N1063602) নিবন্ধন সনদের তথ্য চাইলে তিনি তা দেয়ার কথা বলেও দেননি।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা আমেনা পারভিনের কাছে জানতে চাইলে প্রশ্ন শুনে ফোন কেটে দিয়ে বন্ধ করে রাখেন।

কড়ইবাড়িয়া এতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাহবুব আলম নিজ প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী পদে নিয়োগ জালিয়াতির করার কারণে বর্তমানে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এবিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, একই সাথে একই ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কোন সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225