, ,

পাথরঘাটায় সপ্তম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের দেড় মাস পরে ধর্ষণ মামলা

এমএইচ কিসলু
সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের এক মাস ২১ দিন পরে না পেয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছে তার মা। মঙ্গলবার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস মামলাটি গ্রহন করে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু।

জানা যায়, বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার ছোনবুনিয়া গ্রামের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৫ বছরের নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝাড়াখালী গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে মো: মুছার (২৫) ফেইসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। মুছা স্কুল ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। স্কুল ছাত্রী প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হলে মুছা জোর করে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় মেয়েকে। মুছার এমন আচরণ মেয়েটি তার বাবা মায়ের নিকট বলে দেয়। এরপর থেকে মেয়েটি মুছার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে। এতে মুছা প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩১ আগস্ট সকাল অনুমান সাড়ে ৭ টার সময় ওই ছাত্রী স্কুলে রওনা হয়ে কালমেঘা মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার উপর পৌছে। এমন সময় আসামী মুছা ও তার তিনজন বন্ধু স্কুল ছাত্রীকে জোর পূর্বক খুনের ভয় দেখিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

মেয়ের মা বলেন, আমার কন্যা প্রতিদিনের মত স্কুল থেকে বিকালে বাসায় না ফেরায় আমি ওই দিন পাথরঘাটা থানায় সাধারণ ডাইরী করি। আমার মেয়েকে বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাসায় খুঁজতে থাকি। আমার আত্মীয় মোঃ স্বপনের কাছে জানতে পারি আসামী মুছাসহ কয়েকটি ছেলে আমার নাবালিকা মেয়েকে অপহরণ করেছে। আসামীর বাবা জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রীর নিকট গেলাম। তারা আমার মেয়েকে ফেরৎ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পরেও একমাস ২১ দিন হলো। তারা আমার মেয়েকে ফেরৎ দেয়নি। আমার মেয়ে মুছার দখলে আছে। তবে বেঁচে আছে কিনা জানিনা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আসামী মুছা আমার ছোট্ট মেয়েটিকে কোথাও আটক রেখে ধর্ষণ করতে পারে। এমনও হতে পারে টাকার বিনিময় মেয়েটিকে বিদেশে পাচার করেছে মুছা। অথবা মেয়েকে হত্যা করে লাশ গোপনও করতে পারে। কোথায় কী অবস্থায় আমার মেয়ে আছে তা জানি না। আসামী মুছার ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান বলেন, থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করার পরে মেয়ের অভিভাবক কেহ থানায় আসেনি। আমরাও মেয়েটিকে খুঁজে বের করার চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে থানায় মামলা করতে আসেনি। মামলা করতে আসলে মামলা নিতাম।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225