
এমএইচ কিসলু
চাচাকে বাড়ি থেকে উৎখাত করার জন্য বোনের মেয়েকে দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করার অভিযোগে বাদিকে পাঁচ বছর স্বশ্রম কারাদন্ড ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদন্ডের রায় দিয়েছে আদালত। বুধবার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস এই রায় ঘোষনা করেন। আসামী হলো, বরগুনা জেলার বেতাগী পৌরসভার খাদ্য গুদাম সড়কে মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে কাওসার (৩৯) রায় ঘোষনার সময় আসামী আদালতে উপস্থিত ছিল।
জানা যায়, দন্ডপ্রাপ্ত আসামী কাওসার তার আপন চাচা মো: মোস্তফা হানিফের (৬৫) বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর বেতাগী থানায় একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে। ওই মামলায় কাওসার অভিযোগ করেন তার বোনের ১০ বছরের শিশুকে মো: মোস্তফা হানিফ ধর্ষণ করে। ওই মামলায় মো: মোস্তফা হানিফ গ্রেফতার হয়ে ৩ মাস ১৭ দিন জেল হাজতে থাকেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২৩ সালের ২৮ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ওই ট্রাইব্যুনাল কাওসারের মামলা খারিজ করে দেয়।
মুল মামলার বাদি কাওসার মিথ্যা মামলা করায় ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর মো: মোস্তফা হানিফ বাদি হয়ে কাওসারের বিরুদ্ধে ওই একই ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
মো: মোস্তফা হানিফ যুগান্তরকে বলেন, আমি তিনটি বিবাহ যোগ্য মেয়ে নিয়ে ঝালকাঠির রাজাপুর শশুর বাড়িতে থাকি। মেয়েদের বিবাহ দেওয়ার জন্য বেতাগীতে আমার নিজ বাড়িতে ঘর তুলতে শুরু করি। আমার ভাতিজা কাওসার তার বোনের ১০ বছরের মেয়েকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে। এই মিথ্যা মামলায় আমি ৩ মাস ১৭ দিন জেল হাজতে ছিলাম। কাওসারের দায়ের করা মামলায় আমি নির্দোষ প্রমানিত হই। পরে আমি কাওসারের বিরুদ্ধে মামলা করি।
আদালত মন্তব্য করেন, কাওসার তার বোনের একটি ছোট মেয়েকে দিয়ে চাচা মো: মোস্তফা হানিফের বিরুদ্ধে জঘন্যতম একটি মিথ্যা মামলা করেছে। যা তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। এই মামলায় মো: মোস্তফা হানিফের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আদালত সবার উদ্দেশ্য বলেন, শত্রুতার কারনে এ জাতীয় মিথ্যা মামলা আর যেন কেহ না করেন। এ মেসেজের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা অনেকটা কমে যাবে। পিপি রনজুয়ারা সিপু বলেন, মো: মোস্তফা হানিফ সৌদি আরবে একটি জাহাজের ক্যাপ্টেন ছিলেন। তার চাকরিও চলে গেছে। আদালত সঠিক রায় দিয়েছেন। রায়ে রাস্ট্র পক্ষ সন্তুষ্ট। আসামী পক্ষের আইনজীবী জাফর ইকবাল বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আমার মক্কেল উচ্চ আদালতে আপীল করবেন।






