,

বরগুনায় পায়রা নদীর ভাঙ্গনে কয়েকটি গ্রাম বিলীন

এমএইচ কিসলু

পায়রা নদীর ভাঙ্গনে বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের কয়েটি গ্রাম বিলীন হতে চলছে। এখনই নদী শাসন না হলে অচিরেই গ্রাম গুলো নদী গর্ভে চলে যাবে। গ্রাম গুলো হলো ছোট তালতলী, ফালিসাতলী, পালের বালিয়াতলী, চারাভাঙ্গা, ঝিনইবাড়িয়া, ছোট বালিয়াতলী, লতাকাটা, শশাতলী, চালিতাতলী, উরবুনিয়া ও জেলখানা। ইতিমধ্যে শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, বঙ্গোপসাগরের মোহনায় এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের পাশে মিলিত হয়েছে পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদী। এর মধ্যে খরস্রোতা পায়রা নদী মোহনার দুপাড়জুড়ে ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের ফালিসাতলী থেকে জেলখানা পর্যন্ত পুরো এলাকায় ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে গ্রামবাসী। বরগুনায় ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের জলোচ্ছ্বাসে এই অঞ্চলের বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় বহু গ্রাম। সে সময় ভেসে যায় মানুষ ও গবাদি পশু। মারা যায় কয়েক হাজার মানুষ। সিডরের পরে মোহসিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গ্রামীন জনপদে কাচা রাস্তা। সিডরের পর বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি কিছু জায়গায় জরুরি সংস্কার করলেও তা টেকেনি জলোচ্ছ্বাস আর অতিরিক্ত জোয়ারে। এলকায় জনদুর্ভোগ লেগেই থাকে। বর্ষা মৌসুমে প্রান্তিক মানুষের জীবন কাটে আতংকে।

উরবুনিয়া গ্রামের আব্দুস ছালাম বলেন, ‘যখন ঝড়ের সিগন্যাল পড়ে তখন মনে ভয় কাজ করে। আতংকে ঘরে বসে থাকি। চিন্তা করব এবারও বুঝি বেড়িবাঁধ ভেঙে মোদের সব ভেসে যাবে। আমাদের চেয়ারম্যান মেম্বররা শুধু আশ্বাস দিয়েন বলেন, কোনো চিন্তা করিস না। এই বার উঁচু বাঁধ হবে। কিন্তু ঝড় শেষ হলে সব আলোচনাও শেষ। আমরা আগে যেমন ছিলাম তেমনি আছি। আমাদের কোনো পরিবর্তন আজও হয়নি।

চারাভাঙ্গা গ্রামের রাশেদা বেগম বলেন, সিডরের পর থেকে আজ পর্যন্ত এক চাকা মাটিও আমাদের রাস্তায়ফেলা হয়নি। বেড়িবাঁধ যেমন ছিল তেমনিই আছে। আমাদের রাস্তাঘাটে গাড়িও চলে না। অতি কস্টে রোগি নিয়ে বরগুনা যেতে হয়। আমাদের কথা কেহ ভাবে না।

কিছুদিন আগে বরগুনার জেলখানা নামক গ্রামে স্থানীয় একটি সংগঠনের (সোনালী যুব সংসদ) উদ্যোগে নদীভাঙন ও মানবিক সংকটের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৩ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল পায়রা নদীর ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ ও গ্রামে একটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের দাবি।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাব ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (এসডিই) শওকত ইকবাল মেহরাজ, সাব ডিভিশনাল অফিসার (এসডিও) মো. স্বপন হোসেন। এ সময় স্থানীয় বেসরকারী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান বলেন, এখানকার বেড়িবাঁধ ও স্লুুইজ গুলো ষাটের দশকে নির্মিত। এই স্লুইজ গুলো এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। স্বল্প মেয়াদে মেরামতের পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে প্রায় ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, স্লুইজগেট ও সিসি ব্লক নির্মাণের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হবে। আমরা আশা করতে পারি এখানকার প্রান্তিক মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত আশা পূরণ হবে। ফিজিবিলিটি স্টাডি করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225