
এমএইচ কিসলু
আদালতে শপথ পড়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে বাদি আসামীসহ তিনজনকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস এ আদেশ দিয়েছেন।
জানা যায়, মামলার বাদি হাফেজা মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার মিম (২১) বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার শারিকখালী গ্রামের আবু হানিফ খানের ছেলে মোঃ মহিবুল্লাহসহ চার জনের বিরুদ্ধে ওই ট্রাইব্যুনালে গত বছরের ২৮ জুলাই একটি মামলা দায়ের করেন। বাদির অভিযোগ ছিল তার স্বামী মহিবুল্লাহ চারজন আসামীরা বাদির নিকট দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে শারিরীক নির্যাতন করেন।
এই মামলায় আসামী মো: মহিবুল্লাহর বিরুদ্ধে বাদিসহ ৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সোমবার ওই ট্রাইব্যুনালে বাকি সাক্ষ্যর জন্য ধার্য্য ছিল। বাদি সাক্ষ্য না জানিয়ে আদালতে দাড়িয়ে বলেন, আমরা আপোস করেছি। আমার মামলার ঘটনা সত্য ছিল না।
পিপি রনজুয়ারা সিপু বলেন, বাদি একজন কোরআনে হাফেজা। আমরা তাকে সম্মান করি। বাদিসহ পাচঁজন সাক্ষ্য দেওয়ার পরে আদালতে দাড়িয়ে বাদি বলেন আমি মিথ্যা মামলা করেছিলাম। সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। অথচ আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে শপথ পড়ে বাদিসহ পাঁচজন মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। এখন বলে মিথ্যা মামলা করেছি। মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অপরাধে বিচারক বাদি হাফেজা মোসাঃ সুমাইয়া আক্তার মিম, তার নানা মো: শাহ আলম সিকদার ও আসামী মোঃ মহিবুল্লাহকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
পিপি রনজুয়ারা সিপু আরও বলেন, আসামী মো: মহিবুল্লাহ বাদিকে ভুল বুঝিয়ে আদালতে দাড়িয়ে মিথ্যা বলাতে সহায়তা করেছে। এ কারনে আসামীর জামিন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি আরও বলেন, এই মেসেজটি সবার কাছে পৌছে গেলে মিথ্যা মামলা অনেকাংশে কমে যাবে। আদালত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আসামী পক্ষের আইনজীবী মাহবুবুল বারি আসলাম বলেন, এতদিন আসামী আমার ল’ চেম্বারে আসতেন। ৫ জন সাক্ষ্যের জেরা করেছি। আজকে আসামি আমার চেম্বারে আসেনি। এখন শুনি বাদির সঙ্গে আপোস করেছে। আমার কাছে যদি আবার আসেন তাহলে আদালতে জামিন চাইব।






