,

আমতলীতে খাদ্য বান্ধব কর্মসুচীর চাল বিতরনে অনিয়ম, ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ।

হাফিজুর রহমান, বরগুনাঃ
খাদ্য বান্ধব কর্মসুচীর চাল বিতরনে অনিয়ম ও ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপকারভোগীরা অভিযোগ করেন ডিলার লিটন হাওলাদার ৩০ কেজি চালের টাকা রেখে ২৫-২৭ কেজি চাল দিয়েছেন। যারা এ অনিয়মের প্রতিবাদ করেছেন তাদের চাল দেয়া হয়নি। উল্টো তাদের সাথে অসৌজন্যমুলখ আচরণ করেছেন। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের অফিস বাজার এলাকায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী উপকারভোগীরা।

জানাগেছে, আমতলী উপজেলার খাদ্য বান্ধব কর্মসুচীর আওতায় ১৩ হাজার ১,শ ৫৮ পরিবারকে কম মুল্যে চাল দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরকার। প্রতি পরিবার ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল কিনতে পারবেন। বৃহস্পতিবার ডিলার লিটন হাওলাদার হলদিয়া ইউনিয়নের অফিস বাজার এলাকার নভেম্বর মাসের চাল বিতরন করেন। তিনি ৩০ কেজি চালের টাকা রেখে ২৫-২৭ কেজি চাল দিয়েছেন এমন অভিযোগ উপকারভোগীদের। এছাড়া তার বিরুদ্ধে উপকারভোগীদের চাল না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। উপকারভোগীদের অভিযোগ, কার্ডধারীদের চাল না দিয়ে তিনি তাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। এ সময় ডিলার লিটন উপকারভোগীদের সঙ্গে বাক-বিতন্ডে জড়িয়ে পরেছেন। শতাধিক লোক চাল না নিয়ে ফিরে গেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, ৩০ কেজি চালের টাকা নিয়ে ২৫-২৭ কেজি চাল দিয়েছেন। আমরা চাল কম দেয়ার প্রতিবাদ করায় আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন।
কাঠালিয়া গ্রামের উপকারভোগী শানু তালুকদার বলেন, ডিলার লিটন হাওলাদার ৩০ কেজি চালের দাম ৪৫০ টাকা রেখে ২৬ কেজি দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আমি এর প্রতিবাদ করলে আমাকে হুমকি দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মোতালেব গাজী বলেন, সাংবাদিককের সাথে চাল ওজনে কম দেয়ার কথা বলায় আমাকে চাল দেয়নি। তিনি আরো বলেন, ডিলার লিটন আমাকে হুমকি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হলদিয়া ইউনিয়নের অফিস বাজার এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, ডিলার লিটন হাওলাদার গোপনে চাল মেপে ওজনে কম দিচ্ছে। চাল পরিমাপ করার স্থানে কাউকে প্রবেশ করতে দেননি তিনি। ওই স্থানে চাল বিতরনের তদারকি কর্মকর্তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

হলদিয়া ইউনিয়নের অফিস বাজার এলাকার ডিলার লিটন হাওলাদার চাল বিতরনে অনিয়ম ও ওজনে কম দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি সঠিকমতই চাল বিতরন করেছি। আপনার বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ কেন? এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি তিনি।
হলদিয়া ইউনিয়নের তদারকি কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষক মোঃ সায়েদ গাজী বলেন, আমি বরিশালে থাকায় আমার প্রতিনিধি গিয়ে দেখাশুনা করেছেন। তিনি যতক্ষণ ছিলেন তৎক্ষণ কোন অনিয়ম হয়নি। সে আসার পরে কি হয়েছে তা আমি জানিনা?

আমতলী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শারমিন জাহান বলেন, ওজনে কম দেয়ার কথা শুনেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রোকনুজ্জামান খাঁন বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225