নেপালে এশিয়ান এক্সেলেন্স অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ পেলেন ঐন্দ্রেলা আক্তার বিথী

বিশেষ প্রতিনিধি, কাঠমান্ডু:
বাংলাদেশের খ্যাতনামা নৃত্য ও সংগীতশিল্পী ঐন্দ্রেলা আক্তার বিথী নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মাননা অনুষ্ঠানে এশিয়ান এক্সেলেন্স অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ অর্জন করেছেন। পারফর্মিং আর্টসে তাঁর অসামান্য অবদান ও দীর্ঘদিনের শিল্পসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত হোটেল জি রামায়ণ-এ আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাউথ এশিয়ান বিজনেস পার্টনারশিপ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দক্ষিণ এশীয় দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যা আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপাল সরকারের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক মাননীয় মন্ত্রী বাবলু গুপ্তা। বিশেষ অতিথি হিসেবে সাবেক নেপালি মন্ত্রী এক নাথ ধাকাল আনুষ্ঠানিকভাবে ঐন্দ্রেলা আক্তার বিথীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন এশিয়ান বিজনেস পার্টনারশিপ সামিটের নির্বাহী পরিচালক মো. গোলাম ফারুক মজনু। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সংস্কৃতিকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঐন্দ্রেলা আক্তার বিথী বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তালিকাভুক্ত শিল্পী। ২০০৪ সাল থেকে তিনি নিয়মিতভাবে মণিপুরী নৃত্য, ভরতনাট্যম, লোকনৃত্য ও সৃজনশীল নৃত্যচর্চায় যুক্ত রয়েছেন। তিনি প্রখ্যাত মণিপুরী নৃত্যশিল্পী তামান্না রহমানের শিষ্যা, যিনি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের অন্যতম গুণী নৃত্যগুরু আনিসুল ইসলাম হিরুর কাছে ভরতনাট্যমে নিয়মিত তালিম গ্রহণ করছেন। এছাড়াও তিনি কিংবদন্তি ভারতীয় মণিপুরী নৃত্যগুরু কলাবতী দেবীর কাছ থেকে বিশেষ ও দুর্লভ প্রশিক্ষণ গ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন করেছেন।

দীর্ঘ শিল্পীজীবনে তিনি দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন। এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা তাঁর শিল্পীজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225