তালতলীতে বাবার সাথে প্রতারণাপূর্বক জমি লিখে নিলেন ছেলে, বৃদ্ধা বাবার সংবাদ সম্মেলন

আবুল হাসান, বরগুনা: বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝাড়াখালী এলাকায় নিজ ছেলেকে ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে ২ একর জমি হারিয়েছে বৃদ্ধা বাবা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাবা আব্দুল খালেক হাওলাদার (৯০) আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন এবং সংবাদ সম্মেলন করে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ আব্দুল খালেক হাওলাদারকে ছোট ছেলে আঃ নাজমুল ইসলাম (রহিম) হাওলাদার তাকে তালতলী বন্দরের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে জানান, ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ৫ লাখ টাকা ঋণ প্রয়োজন এবং ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে বাবার শুধুমাত্র “গ্র্যান্ডার” বা জামিনদার হিসেবে স্বাক্ষর প্রয়োজন।
৯০ বছর বয়সী আব্দুল খালেক, যিনি চোখে কম দেখেন এবং কানে কম শোনেন, ছেলের কথায় বিশ্বাস করে স্বাক্ষর ও টিপসই দেন। পরে জানান এখানে লোন দিবে না আমতলী যেতে হবে। তাকে আমতলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন দলিলে স্বাক্ষর করানো হয়। পরে জানা যায়, ওই দলিলগুলো ছিল হেবা ঘোষণাপত্র (দানপত্র), যার মাধ্যমে তার ২ একর জমি ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বৃদ্ধ বাবা নিজ জমিতে ইরি ধানের চারা রোপণ করার উদ্যোগ নিলে সেখানে ছোট ছেলে বাধা দেয় এবং জমিটি তার নামে রেজিস্ট্রিকৃত বলে দাবি করে। ওই সময় রেজিস্ট্রি দলিল দেখালে বিষয়টি স্পষ্ট হয় এবং তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে বুঝতে পারেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল খালেক হাওলাদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,আমি অসুস্থ ছিলাম, চোখে ভালো দেখি না, কানে কম শুনি। আমার ছেলে আমাকে বলেছে ব্যবসার জন্য লোন করতে হবে সেখানে বাবার জন্য স্বাক্ষর লাগবে। আমি বিশ্বাস করে সই করি। পরে দেখি আমার ২ একর জমি সে নিজের নামে লিখে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন,আমার ৪ ছেলে ও ৫ মেয়ে আছে। এই জমি ছিল আমার পরিবারের ভবিষ্যতের সম্বল। এখন আমার অন্য সন্তানরা বঞ্চিত হয়েছে। জীবনের শেষ বয়সে আমি এই প্রতারণার ফাঁদে পরেছি। আমি এর বিচার চাই। এ ঘটনায় আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী বাবা।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও ভুক্তভোগীর জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Facebook Comments Box

Leave a Reply

  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225