তালতলীতে শিক্ষক নিয়োগে অভিনব জালিয়াতি 

আবুল হাসান, বরগুনা: বরগুনার তালতলী বেগম নূরজাহান নিন্ম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সমাজ বিজ্ঞান) আবিদা সুলতানা জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। নিয়োগ কমিটি না থাকা, ব্যান বেইজের তথ্যে গরমিল এবং নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল শীটে ২য় হওয়া সত্ত্বেও অসদুপায় অবলম্বন করে অদৃশ্য ভাবে নিয়োগ পেয়েছেন।

জানা যায়, ২০০৪ সালের ৫ জানুয়ারি দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় বেগম নূর জাহান নিন্ম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে সরকারি বিধি মোতাবেক সাধারণ পদে দুইজন সহকারী শিক্ষক ও একজন করে সহকারী শিক্ষক বিজ্ঞান, সহকারী শিক্ষক ধর্ম, শরীর চর্চা শিক্ষক, অফিস সহকারী, পিয়ন ও আয়া নিয়োগ করা হবে মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে তৎকালীন সময়ের ৭ দিনের মধ্যে আবেদন মজা দেওয়ার কথা জানানো হয়। পরক্ষণে ওই বছরের ৭ জানুয়ারি দৈনিক মুক্ত খবর পত্রিকায় সংশোধিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে প্রতি পদে একজন করে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সহকারী শিক্ষক সমাজবিজ্ঞান, সহকারী শিক্ষক গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞান, সহকারী শিক্ষক ধর্ম, শরীর চর্চা শিক্ষক, অফিস সহকারি, পিয়ন ও আয়া পদে নিয়োগ প্রদান করা হবে মর্মে বিজ্ঞাপ্তি প্রকাশ করে।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির পরে ওই বছরের ২৬ জানুয়ারি নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহকারী শিক্ষক সমাজবিজ্ঞান পদে ৪ জন অংশ গ্রহণ করেন। যার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর পায় চরপাড়া গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে আ.সালাম। তিনি ফলাফল শীটের তথ্য মতে ২৩.৯ নম্বর পেয়ে প্রথম হন এবং ছোটবগী গ্রামের মোঃ আলী হোসেনের মেয়ে মোসাঃ আবিদা সুলতানা ২৩.৪ নম্বর পেয়ে ২য় হন। আ.সালাম স্বপদে যোগদান করে নিয়মিত চাকরি করে আসছিলেন। এমন কি ২০১৯ সাল পর্যন্ত ব্যান বেইজে তার নামও রয়েছে। এদিকে পূর্বের শিক্ষক হাজীরা খাতা গায়েব করে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে আব্দুস সালামকে প্রতিষ্ঠান থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে তার স্থান দখল করে বসে আবিদা সুলতানা। কোন প্রকার অব্যাহতি পত্র ছাড়া এবং পুনঃ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও রেজুলেশন ব্যতীত ২০০৪ সালে আবিদা সুলতানার নিয়োগ যোগদান দেখানো হয়।

২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি ২০২৩ সালে এমপিওভুক্ত হলে বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক সমাজবিজ্ঞান সেজে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন আবিদা সুলতানা।

আ. সালাম এর দাবি, আবিদা সুলতানা জালিয়াতির মাধ্যমে বসে আছেন। তিনি তার চাকুরী ফিরে পেতে চান।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক আবিদা সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, আমি কিছু জানি না। কতৃপক্ষ আমাকে কিভাবে নিয়োগ দিয়েছে তাদের গিয়ে প্রশ্ন করুন।

নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক এমপি মতিয়ার রহমান তালুকদার। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান মাষ্টারকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তার সারা মেলেনি।

তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার টিপু সুলতান বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। এই নিয়োগ অনেক আগের। এবিষয়ে আমার ধারণা নেই। তবে যদি অনিয়মের অভিযোগ থাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225