ইসহাক জুয়েলঃ
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) প্রতিনিধি থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ডিজির প্রতিনিধি না নিয়েই প্রধান শিক্ষকের কারসাজিতে দুইজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এমন গুরুতর অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকরা নিয়োগ নেয়ার পরে এমপিওভুক্তও হয়ে বছরের পর বছর সরকারি তহবিল থেকে বেতন ভাতা তুলছেন। এমন গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার ফুলতলা নুরুননেসা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে ও তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, আওয়ামীলীগ নেতা বিবিচিনি ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক নওয়াব হোসেন খান নয়ন এর বিরুদ্ধে।
জেলা শিক্ষা অফিসের রেজিস্ট্রার বহিতে ২০১৩ সালে ফুলতলা নুরুন্নেসা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নামে ডিজি মহাদয়ের প্রতিনিধি মনোনয়নের কোন চিঠি ইসু করার তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, কৃষি শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিটন কুমার হাওলাদার নামের একজনকে ১৪/০৮/২০১৪ খ্রি. তারিখে নিয়োগ দিলে তিনি ১৮/০৮/২০১৪ খ্রি. তারিখে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং হিন্দু ধর্ম শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে শিলা রানী মিত্র নামের একজনকে ০৬/১১/২০১৪ খ্রি. তারিখে নিয়োগ দিলে তিনি ১০/১১/২০১৪ খ্রি. তারিখে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এরপর তারা এমপিওভুক্ত হন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকালীন সভাপতি অধ্যাপক নওয়াব হোসেন খান নয়ন
আওয়ামীলিগ নেতা। এমনকি প্রধান শিক্ষক নিজেও সক্রীয়ভাবে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারনে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করে নিজের পছন্দের লোককে নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই নিয়ম বহির্ভূতভাবে লিটন কুমার হাওলাদার ও শিলা রানী মিত্র নামে দুজনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক লিটন কুমার হাওলাদার( ইনডেক্স এন ১১২০৬১৮) ও শিলা রানী মিত্র (ইনডেক্স এন ১১১৬৬৪০)‘দ্বয়ের কাছে জেলা শিক্ষা অফিসের রেজিষ্ট্রার বহিতে আপনাদের নিয়োগের ডিজি মহোদয়ের প্রতিনিধির কোন চিঠি ইস্যু করা হয়নি তাহলে নিয়োগটি কি বৈধ হবে কিনা? জানতে চাইলে অভিযুক্তরা বলেন, এরকম কিছু হয়ে থাকলে নিয়োগটি বৈধ হয় না। তবে আমরা বরগুনা গার্লস স্কুলে বসে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েছি। আমাদের কাছে সকল কাগজপত্র আছে।
এ বিষয়ে নিয়োগকালীন প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবর রহমান এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিগত আওয়ামীলিগ সরকার পতন হবার পর তিনি অনেকটা আত্তগোপনে চলে যান। তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারি নিয়োগ দেয়ার নাম করে একাধিক ব্যাক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেয়াসহ একাধিক অনিয়মের কারনে বর্তমানে সাময়িক বহিষ্কার আছেন।
অত্র প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি কিছু দিন আগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করি। আইন আমার সঠিক জানা নাই। ডিজির প্রতিনিধি না থাকলে নিয়োগ পরিক্ষা বৈধ হবার কথা না।
এবিষয়ে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শিরিন আক্তার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


