হাফিজ খান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
বরগুনা জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন এমন দাবি জানিয়েছেন বরগুনার এলজিইডি এর কর্মকর্তারা। তিনি বরগুনার এলজিইডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি মাননীয় মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, মাননীয় প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং মাননীয় চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বরগুনা জেলা এলজিইডি এর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন এলজিইডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। কয়েকদিন পূর্বে ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বরগুনা এলজিইডিতে কাজের জন্য টেন্ডার দাখিল করেন। তিনি কাজ না পাওয়ার জন্য এমনটা অভিযোগ করেছে বলে উল্লেখ করেন।
ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বরগুনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান খানের হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তায় লিখেছেন, বরগুনা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের সকল বরাদ্ধ আমার করানো। সুতরাং আমার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাহরিস এর বাহিরে যাতে কোন প্রতিষ্ঠান কাজ না পায়। আপনি সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এমনটাই আদেশ দিয়েছেন বরগুনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানকে। একজন সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে কি করে এমন আদেশ দিতে পারেন বিএনপি নেতা??
বরগুনা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীর শ্যামল কুমার গাইন বলেন, বরগুনা জেলা উন্নয়ন (BDRIIP) প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৮ টি দরপত্র ইজিপি OTM পদ্ধতিতে আহ্বান করা হয়েছে। তার মধ্যে ৪ টি দরপত্র মূল্যায়ন শেষে অনুমোদনের জন্য প্রকল্প পরিচালক মহোদয়ের দপ্তরে ইজিপি সিস্টেমের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে। যেগুলোর অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ প্রকল্প পরিচালক। আমাদের দপ্তরে পিপিআর ২০২৫ এবং ইজিপি গাইডলাইনস অনুসরণ করে সকল দরদাতার দরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে। এখানে সারা বাংলাদেশ থেকে দরদাতা প্রতিষ্ঠান দরপত্র ইজিপি সিস্টেমে জমা দিয়েছেন এবং প্রাথমিক মূল্যায়ন শেষে সরকার অনুমোদিত Significantly Lowest Tender (SLT) হিসেবে প্রতি দরপত্রে একজন ঠিকাদার ১ম সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ রূপে অনলাইন মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং এখানে ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে কোনো দরদাতাকে কাজ পাইয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। আমার বিরুদ্ধে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে নিকট আত্মীয় নামে কাজ দেয়ার কথা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটা সরকারি কাজ বাধাগ্রস্থ করার প্রচেষ্টা।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান খান বলেন, অত্র দপ্তরের দরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের বিষয়ে জনৈক ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনের একাধিক ফেসবুক লাইভ আমার নজরে এসেছে। সেখানে তিনি আমার নিকট আত্মীয়দের টেন্ডারে কাজ পাইয়ে দেয়ার বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। ফেসবুক লাইভে তার আলাপ শুনে মনে হয়েছে যে তিনি পিপিআর এর সাম্প্রতিক সংশোধনী, ইজিপি গাইডলাইনস এবং দরপত্র মূল্যায়নের বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে অজ্ঞ। তার বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, কল্পনাপ্রসূত, উদ্দেশ্য প্রনোদিত এবং আক্রোশ মুলক। তার সাম্প্রতিক কার্যকলাপে মনে হয় তিনি আমার সাথে কোন ব্যাক্তিগত শত্রুতায় লিপ্ত হয়েছেন।
বরগুনা জেলার একাধিক ঠিকাদার বলেন ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন যে অভিযোগ করেছেন, এমন কোন আচরণ আমরা বরগুনা জেলার এলজিইডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পাইনি।হয়তো তার ব্যক্তিগত কোন স্বার্থ হাসিল করতে পারেনি তাই এমন অভিযোগ করেছেন।








Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.