পটুয়াখালীতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে প্রতারণা, ফ্ল্যাট দখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

হাফিজ খান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

পটুয়াখালীতে প্রতারণা, অবৈধভাবে ফ্ল্যাট দখল, অর্থ আত্মসাৎ, চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মেহেরুন নেছা।

আবেদনে মেহেরুন নেছা দাবি করেন, তিনি জহির-মেহেরুন নার্সিং কলেজ, সুলতানা রাজিয়া পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং সুলতানা রাজিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। এছাড়াও তিনি ডি ডব্লিউ এফ এর ভাইস চেয়ারম্যান। রাজধানী নার্সিং কলেজ ও আনোয়ারা বেগম নার্সিং কলেজের দাতা সদস্য এবং ইস্টার্ন আই সি ই এফ নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে মেহেরুন নেছা উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্টের পর অভিযুক্ত জামায়াত নেতা প্রভাষক মো. আবুল বাসার সাইফুল্লাহ রাজনৈতিক ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তাকে তার প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অন্যায়ভাবে বের করে দেন। একই সঙ্গে তাকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পটুয়াখালী শহরের লতিফ স্কুল রোডের সিটি টাওয়ারে অবস্থিত তার মালিকানাধীন একটি ফ্ল্যাট দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় দেড় বছর ধরে ওই ফ্ল্যাটের ভাড়ার অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মেহেরুন নেছার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আবুল বাশার সাইফুল্লাহ আমার স্বামীর ভগ্নিপতি। আমাদের পারিবারিক সকল বিষয়ে তিনি হস্তক্ষেপ করেন। তিনি তার মেয়ের মেডিকেলে ভর্তি সংক্রান্ত কাজে ধার হিসেবে ১০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরে সেই টাকা ফেরত চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

বর্তমানে তিনি ও তার সন্তানরা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। তার মেয়ের ভারতের একটি আন্তর্জাতিক বিদ্যালয়ে ‘ও’ লেভেল পরীক্ষার জন্য প্রায় ৮ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। পারিবারিক সমস্যার সুযোগ নিয়ে তাকে মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এছাড়া বরগুনার লাকুরতলা এলাকায় তার বাসার তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এ ঘটনায় বরগুনা সদর থানায় পূর্বে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান।

আবেদনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় দলীয় কর্মসূচির নামে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। এমনকি তার স্বামীকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার ফ্ল্যাটের দখল, দেড় বছরের ভাড়া, ফ্ল্যাটের দলিলপত্র, ধার দেওয়া ১০ লাখ টাকা এবং বরগুনার বাসা থেকে নেওয়া মালামাল উদ্ধারসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আবুল বাসার সাইফুল্লাহ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পটুয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মহোদয় কে দায়িত্ব দিয়েছেন।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225