স্টাফ রিপোর্টার:
শিক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অস্বচ্ছ আর্থিক কার্যক্রম এবং কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন অভিভাবকরা। পরীক্ষা ফি প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে চলমান ‘ফি বাণিজ্য’ বন্ধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক প্রতিনিধি এস. এম. ইফতেখারুল ইসলাম মমিন। এতে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদের সভাপতি মো. গোলাম ফারুক মজনু, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জি-২৪ নিউজ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. কামরুল ইসলাম, অপরাধ বিচিত্রার সম্পাদক অশোক কুমার ধর, প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, দৈনিক দিন-প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক জালাল উদ্দিন জুয়েল, অধ্যাপিকা সালমা জাহান, ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম ও শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ সেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, কোনো পূর্বঘোষণা বা অভিভাবকদের মতামত গ্রহণ ছাড়াই হঠাৎ করে পরীক্ষা ফি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর জন্য ৮০০ টাকা এবং ইংলিশ ভার্সনের শিক্ষার্থীদের জন্য ১,২৫০ টাকা পরীক্ষা ফি নির্ধারণকে তারা ‘অযৌক্তিক ও গণবিরোধী’ সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করেন।
সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদের সভাপতি মো. গোলাম ফারুক মজনু তার বক্তব্যে বলেন, ‘আজ আমরা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে আসিনি। আমরা এসেছি শিক্ষার নামে চলমান অবিচার, অনিয়ম ও বাণিজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে। দেশের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রের পরিবর্তে অর্থ উপার্জনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। ভর্তি ফি, সেশন ফি, উন্নয়ন ফি, পরীক্ষার ফি, নানা নামে অভিভাবকদের পকেট কাটা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেটে গেটে যেন অঘোষিত টোল আদায় চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষা কোনো ব্যবসা নয়, শিক্ষা কোনো পণ্য নয়। শিক্ষার্থীরা কোনো গ্রাহক নয় এবং অভিভাবকরা কোনো এটিএম মেশিন নয়। যারা শিক্ষার নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ লুটে নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, কোচিং বাণিজ্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত পাঠদান না করে শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টারে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি প্রতারণার শামিল।
বক্তারা বলেন, একজন দিনমজুর, কৃষক, শ্রমিক কিংবা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবক সন্তানের শিক্ষার ব্যয় বহন করতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। অথচ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসাধু চক্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে মুনাফার ব্যবসায় পরিণত করেছে। এ অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাবেশ থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক ফি বাতিল, পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ, কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণের সকল অপচেষ্টা বন্ধ করা।
সভাপতির বক্তব্যে এস. এম. ইফতেখারুল ইসলাম মমিন মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সকল আর্থিক হিসাব প্রশাসন ও অভিভাবকদের সামনে প্রকাশের দাবি জানান। তিনি অতিরিক্ত ধার্য করা পরীক্ষা ফি প্রত্যাহার করে অভিভাবকদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে আগামী ২২ জুন বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, শিক্ষা সচিব এবং শিক্ষা মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে ‘সম্মিলিত অভিভাবক ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গঠন করা হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যবসা করার দিন শেষ হতে হবে। জনগণের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।







