আমতলীতে পূর্বশত্রুতার জেরে তরমুজ ক্ষেত নষ্ট, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

হাফিজুর রহমান খান, বরগুনা:
বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে তরমুজ ক্ষেত নষ্ট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা হলেও আসামিরা জামিনে বের হয়ে ভুক্তভোগীকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন চাষি সফিরুল বাসার।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটখালী গ্রামের আলি ও ফারুকের কাছ থেকে ২৪০ শতাংশ জমি নগদ টাকায় নিয়ে তরমুজ চাষ করেন সফিরুল বাসার। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে পূর্বশত্রুতার জেরে মো. সুজন সিকদার ও তার পিতা খোরশেদ আলম সিকদার ওই তরমুজ ক্ষেতে গিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ জমির চারা উপড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে প্রায় ৪৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন সফিরুল বাসার।

এ ঘটনায় ১৯ ফেব্রুয়ারি আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল কোর্টে তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন সফিরুল বাসার। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে গ্রেফতারের আদেশ দেন। পরে আসামিরা ২২ ফেব্রুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে ২৬ ফেব্রুয়ারি বরগুনা জেলা জজ কোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, জামিনে বের হওয়ার পর থেকেই বাদী সফিরুল বাসারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন আসামিরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে সুজন সিকদার ও খোরশেদ সিকদারের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল লাঠিসোটা নিয়ে সফিরুল বাসারকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে খুঁজতে যায়। এ সময় সফিরুল বাসার প্রাণভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান এবং বর্তমানে আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন।

ভুক্তভোগীকে না পেয়ে অভিযুক্তরা পুনরায় ক্ষেতে ঢুকে আরও ৪ শতাংশ জমির তরমুজের চারা নষ্ট করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে খেতে প্রয়োগের জন্য রাখা ৮ বস্তা সার ও একটি হ্যান্ড স্প্রে মেশিন ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সুজন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ভুয়া ডলার বিক্রি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি। এসব কর্মকাণ্ডে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী সফিরুল বাসার বলেন, আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু তারা জামিনে বের হয়ে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি এখন পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. সুজনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225