বরগুনায় ভূয়া চিকিৎসক মাহবুবুর রহমানের চেম্বার বানিজ্য

 

আবুল হাসান, বরগুনা: প্যারামেডিকস বা ডিপ্লোমা অর্জনকারী কর্মীরা সাধারণত ডাক্তারের সহায়ক হিসেবে কাজ করার কথা। তবে বরগুনায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বিএমডিসি অথবা বিএনএমসি অনুমোদন ছাড়া নিজে নিজে বনে গেছেন ডাক্তার। করছেন নিয়মিত চেম্বার ও চিকিৎসা। বরগুনা ফার্মেসি পট্টিতে মিলেছে এমন ভূয়া ডাক্তারের সন্ধ্যান।

বরগুনা সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্যারামেডিকস পদে নিয়োগ প্রাপ্ত মাহবুবুর রহমান। যার দায়িত্ব অসুস্থ শিশুদের দেখভাল করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। তবে নিজ কর্মস্থল ফাঁকি দিয়ে বরগুনা ফার্মেসি পট্টিতে চেম্বার খুলে নিজেই বনে গেছেন ডাক্তার। যদিও অনুমোদন নেই চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার, নেই কোনো গ্রহণযোগ্য অর্জিত সনদপত্র। ধারণা নেই ইন্টার্নি সম্পর্কেও। জানেন না চিকিৎসাসেবা নীতিমালা। রীতিমতো সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে চেম্বার খুলে একই ব্যাক্তি হয়ে ওঠেছেন মেডিসিন, ডায়াবেটিস, অ্যালার্জি, চর্মরোগ, ব্যাথা ও শিশু রোগের মতো একাধিক রোগের বিশেষজ্ঞ। এমন ভূতুড়ে চিকিৎসকের চিকিৎসা ফাঁদে পড়ছেন গ্রাম ও দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ। প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে এ সকল ভূতুরে ডাক্তারদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি সাধারণ মানুষের।

ভূয়া চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান অফিস ফাঁকি দিয়ে চেম্বার করার কথা অস্বীকার করেন। তার দাবি ডাক্তার লিখতে বাঁধা আছে তাই তিনি চেম্বারে চিকিৎসক লিখেছেন।

বরগুনা সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র উপপ্রকল্প পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, চেম্বার করার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

বরগুনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সহিদুল ইসলাম বলেন, আমি জেনেছি তিনি বাহিরে চেম্বার করেন। তার প্রতিষ্ঠান আমি পরিদর্শন করেছি। অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে।

বরগুনা সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, আমি ভুয়া ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে জিরো ডলারেন্স ঘোষণা করলাম। মাহবুবুর রহমানের বিষয়ে আমি জেনেছি। তার কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225