যৌতুক মামলায় পাথরঘাটার বাইনচটকি স্কুলের প্রধান শিক্ষক কারাগারে

হাফিজ খান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
বরগুনার পাথরঘাটায় স্ত্রীর করা যৌতুক মামলায় এক প্রধান শিক্ষককে জেল হাজতে পাঠানোর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের বাইনচটকি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বরগুনা জেলা পারিবারিক আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময় অতিক্রমের পর স্বপ্রণোদিত হয়ে আদালতে উপস্থিত হওয়ায় এ আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার বাদী তার স্ত্রী মোসা. খাদিজা বেগম (৪৭) জানান, তিনি যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় তার স্বামীর বিরুদ্ধে সি.আর মামলা (নং-৩০২/২০২৫) দায়ের করেছেন। তবে মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তিনি ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই মীমাংসার আশ্বাসে আসামি অস্থায়ী জামিন নিলেও পরবর্তী তারিখগুলোতে আদালতে হাজির হননি। উল্টো মামলাটি তুলে নিতে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

খাদিজা বেগম আরও অভিযোগ করেন, আসামি নিজেকে আদালতের এক কর্মচারীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে মামলায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করতে থাকেন। সর্বশেষ ২২ জুন মোটরসাইকেল কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে গালিগালাজ ও তালাকের হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিচালনায় নিয়োগ বাণিজ্য, অতিরিক্ত ফি আদায়, মাঠ ভরাটের টাকা আত্মসাৎ এবং শিক্ষকদের বেতন উত্তোলনের সময় অর্থ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা আন্দোলনেও নামে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তিনি বিতর্কে জড়িয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকায় শিক্ষক আন্দোলনে যাতায়াতের সময় এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে তাদের সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে একটি কাবিননামা প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি সেখান থেকে মুক্ত হন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তার একাধিক বিয়ের বিষয়টিও সামনে আসে।

যৌতুক মামলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম এই দুই ইস্যুকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছেন স্থানীয়রা।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225