
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী এক দশকে দেশের জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনতে পারে সৌর বিদ্যুৎ। পর্যাপ্ত সূর্যালোক, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সরকারি উদ্যোগের কারণে এই খাতকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
বাংলাদেশে বছরে অধিকাংশ সময়ই পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পাওয়া যায়। ফলে গ্রাম থেকে শহর সব জায়গায় সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সোলার হোম সিস্টেম, সোলার সেচ পাম্প, রুফটপ সোলার এবং সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণে শুধু গ্যাস বা কয়লার ওপর নির্ভর করলে ভবিষ্যতে বড় সংকট তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় সৌর শক্তি হতে পারে টেকসই সমাধান।
সরকারও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ভবনে রুফটপ সোলার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প কারখানায় সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌর বিদ্যুৎ শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই নয়, কর্মসংস্থান তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সোলার প্যানেল স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সেবায় হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই খাতে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেকেই সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আগ্রহ দেখাতে পারছেন না। এছাড়া উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবলের ঘাটতিও একটি বড় সমস্যা। এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা সরকারি ভর্তুকি, সহজ ঋণ এবং দেশীয় প্রযুক্তি উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে আগামী দিনে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সৌর শক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করবে।
পরিবেশবিদদের ভাষ্য, সবুজ শক্তির বিকল্প নেই। সৌর বিদ্যুতের প্রসার ঘটলে পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দুই দিকেই বাংলাদেশ লাভবান হবে।
সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ, সরকারের সুষ্ঠ পরিকল্পনায় বেসরকারি পর্যায় সোলারে বিনিয়োগের আহ্বান এবং রুফটপ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিক্রির সহজ করতে হবে।







Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.