হাফিজ খান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
বরগুনা সদর উপজেলার ১০ নং নলটোনা ইউনিয়নের শিয়ালিয়া গ্রামের তালাবদ্ধ একটি ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৫ আগস্ট ২০২৬ ইংরেজি তারিখ রোজ মঙ্গলবার আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ১০ নং নলটোনা ইউনিয়নের শিয়ালিয়া গ্রামের প্রবাসি সোহাগ(২৮) এর বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। ঘরের তালা লাগিয়ে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে রেফার করা হলে তাদের কাপড় চোপড় নেওয়ার জন্য সোহাগ বাড়িতে ফিরে দেখতে পান, ঘরের দরজার তালা ভাঙ্গা। ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ও মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় সোহাগের সাথে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ড্রাইভার জাফর ছিল। বাড়ির এই অবস্থা দেখে সোহাগ আশে পাশের লোকজনকে ডাকে এবং বাবুগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে মুঠো ফোনে বিষয়টি অভিহিত করেন। খবর পেয়ে সাথে সাথেই ঘটনা আসতে হলে পুলিশ চলে আসেন।
অভিযোগকারী বলেন, গত দুইদিন আগে আমাদের বাড়িতে একটি মারামারি হয়েছে। আমার মা এবং ভাইকে মারধর করেছে। তাদের চিকিৎসার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করাই। উন্নত চিকিৎসার জন্য বরগুনা সদর হাসপাতাল থেকে তাদেরকে বরিশালে প্রেরণ করা হয়। দুর্বৃত্তরা ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার, জমির দলিল পত্র, ট্রাকের কাগজপত্র, ৪ টি চার্জার টর্চ লাইট আনুমানিক মূল্য ২৬ হাজার টাকা, তিনটি চুল-দাড়ি কাটার মেশিন, পাঁচ বছর ধরে মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা, বেশ কিছু দামি কাপড়-চোপড় সহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। লুটের আগের দিন আমার ছোট ভাই রাহাত এবং আমার মাকে অনেক মারধর করে। মারামারির সময় আমার মায়ের কাছে থাকা তিন লক্ষ টাকা এবং আড়াই ভরি স্বর্ন নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তারা মাদকাসক্ত। ইতিপূর্বে আমার মাকে আরো তিন বার মারধর করেছে। তিনি আরো বলেন আমার ঘরের তালা ভেঙ্গে লুট করেছে রবিউল, রাসেল, কবির।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
সোহাগের সাথে থাকা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ড্রাইভার জাফর বলেন, সোহাগ ভাই কে আমি পরীরখাল বাজার থেকে আমার মটর সাইকেলে তার বাড়িতে নিয়ে যাই। তার সাথে তার বাড়িতে ঢুকি। বাড়িতে গিয়ে দেখি ঘরের তালা ভাঙ্গা এবং ঘরের ভিতরের মালামাল এলোমেলো। এসব দেখার পরে সোহাগ ভাই আশেপাশে মানুষজন ডাকে এবং বাবুগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ফোন করে। ঘরের তালা কে বা কারা ভেঙ্গেছে এই বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।
এ বিষয়ে অভিযুক্তরা (রবিউল, রাসেল, কবির) বলেন, আমাদেরকে হয়রানি করার জন্য আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন।
এ ঘটনায় বাবুগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশিকুল ইসলাম বলেন, মুঠো ফোনের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। অভিযুক্ত সোহাগের কথা শুনি এবং লুট হওয়া জিনিসপত্র লিস্ট করি। এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্র বা বরগুনা সদর থানায় কোন লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সোহাগকে বরগুনা সদর থানায় অভিযোগ দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ১০ নং নলটোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কেএম সফিকুজ্জামান মাহফুজ বলেন, শিয়ালিয়া গ্রামে একটি মারামারির বিষয়ে উভয়পক্ষ আমার কাছে এসেছিলেন। উভয়পক্ষ আপোস মীমাংসা হওয়ার জন্য সালিশ মেনে যায়। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদে বসে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।







