নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরগুনায় পুরুষদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী রান্না প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় স্ত্রীদের চেয়ারে বসিয়ে অস্থায়ী চুলায় খাবার রান্না করেন ১৫ পরিবারের ১৫ জন পুরুষ। নারীদের কাজের মূল্যায়ন ও সমঅধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে জাগোনারী কর্তৃক বাস্তবায়িত আলোকিত প্রকল্প এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট, ২০২৬) বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ছোট লবনগোলা খালগোড়ায় জাগোনারী কর্তৃক বাস্তবায়িত আলোকিত প্রকল্পের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
প্রতিবেদনে জানা যায় যে, পুরুষদের অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমী এ রান্নার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নারীদের প্রচলিত বিভিন্ন কাজে বিভাজনের বিষয়ে পুরুষদেরকে একটি ধারণা দেওয়া হয়। এ ছাড়াও পারিবারিক ও সামাজিক সকল কাজে নারীদের সহযোগিতা এবং নারী-পুরুষের সমঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এর ফলে নারীদের প্রতি সকল কাজে পুরুষদের সম্মান বাড়ার পাশাপাশি সমঅংশগ্রহণে আগ্রহ বাড়বে বলে জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগোনারী।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাজিয়ে রাখা চেয়ারে বসে আছেন নারীরা। পুরুষরা কাজ করছেন। এদের মধ্যে কেউ শিলপাটায় পেঁয়াজ পিষছেন, আবার কেউ ব্যস্ত মাংস কাটায়। নারীদের সহযোগিতা ছাড়াই রান্নার সব কাজ করছেন তারা। পরে অস্থায়ী চুলায় রান্না করেন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পুরুষরা। এ সময় স্ত্রীদের বসিয়ে রেখে ব্যতিক্রমধর্মী পুরুষদের এ রান্নার প্রতিযোগিতা দেখতে ভিড় করে স্থানীয় মানুষ।
পুরুষদের রান্নার প্রতিযোগিতা দেখতে এসে মোসা. লাইলী নামে এক নারী বলেন, আমরা সারাবছরই স্বামীদের রান্না করে খাওয়াই। আজকে পুরুষদের রান্নার প্রতিযোগিতা চলছে। রান্না করতে কেমন কষ্ট এবং কেমন লাগে আজ আমরা দেখার জন্য বসে আছি। প্রতিদিন আমাদের রান্না করতে কেমন কষ্ট হয়, তা এ আয়োজনের মাধ্যমে পুরুষরা বুঝতে পারবে। আমরা আশা করি এরপর তারা আমাদের কষ্ট বুঝতে পারবে।
রান্না প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে মো.রিপন বলেন, আমার মা এবং স্ত্রী বাড়িতে আমাদের রান্না করেন। কিন্তু প্রতিদিন রান্না করায় কী ধরনের কষ্ট হয় তা এ প্রতিযোগিতায় অংশ না নিলে বুঝতে পারতাম না। সংসারের সকল কাজের পাশাপাশি দিনরাত নারীরা পরিশ্রম করেন। কিন্ত তাদের পরিশ্রমের কথা চিন্তা না করেই ছোট ছোট ত্রুটিতে অনেক সময় তাদেরকে বকাবকি করি। আমি প্রথমবারের মত রান্না করতে এসে নারীদের কষ্ট এবং পরিশ্রমের বিষয় ধারণা পেয়েছি।
মো. শামীম নামে আরেক প্রতিযোগী বলেন, আমরা সাধারণত বাইরে কাজ করি, ঘরের কাজ সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না। আজকে রান্না করতে এসে দেখেছি খাবার তৈরি করতে অনেক কিছু করতে হয়। নারীদের ঘরের সকল কাজে যথাসম্ভব আমাদের সহযোগিতা করা দরকার।
রান্নার আয়োজনের বিষয়ে জাগোনারীর আলোকিত প্রকল্পের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. ইউসুফ বলেন, আমাদের এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নারী এবং পুরুষের সমতা ও ক্ষমতায়নের বিষয়ে সচেতন করা। সমাজে নারী এবং পুরুষ যৌথভাবে কাজ করে পরিবারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়াও নারীরা যে সব কাজ করে তাতে পুরুষের পাশাপাশি যাতে সমান অধিকার পায় এবং সমানভাবে কাজ করার সুযোগ ও মর্যাদা পায় সে লক্ষ্যেই নারীদের উপস্থিতে পুরুষদের রান্নার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জাগোনারীর আলোকিত প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক অমিত কুমার মালাকার বলেন, আমরা জন্ম থেকে দেখেছি রান্নার কাজসহ ঘরের সব কাজই মা-বোনেরা করেন। এ আয়োজনের মাধ্যমে মুলত নারীদের কাজের বিষয়ে এবং মর্যাদা নিশ্চিতের পাশাপাশি পুরুষরা যাতে একটু সংবেদনশীল হয় সে বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। নারী এবং পুরুষের কাজ আমরাই ভাগ করেছি। তবে কাজের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সকল কাজেই একে অপরকে আমরা যাতে সহযোগিতা করতে পারি সে উদ্দেশ্যেই পুরুষদের রান্না করার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।








Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.