বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনায় একটি প্রাথমিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের হেনস্তার শিকার হয়েছেন উজ্জ্বল হাওলাদার নামের এক প্রাণী চিকিৎসক ও তার পরিবার। এমনকি জীবন নাশের হুমকির ও অভিযোগ তুলেছেন বিকাশ চন্দ্র রায় নামের অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে বরগুনা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী প্রাণী চিকিৎসকের স্ত্রী।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলার আবেদন করলে আদালত আমলে নিয়ে ওসি বরগুনা থানাকে ঘটনার তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী প্রাণী চিকিৎসক উজ্জ্বল হাওলাদার।
অভিযুক্ত বিকাশ চন্দ্র রায় সদর উপজেলার পূর্ব ধূপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সদর উপজেলার ২নম্বর গৌরিচন্না ইউনিয়নের দক্ষিণ মনসাতলী (ভূতমারা) এলাকার ধীরেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে।
মামলার নথী, স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী ওই প্রাণী চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিগত দুই বছর পূর্বে সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরিচন্না ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মনসাতলী (ভূতমারা) এলাকায় আড়াই শতাংশ জমি সাব কবলা ক্রয় করেন উজ্জ্বল হাওলাদার নামের ওই প্রাণী চিকিৎসক। গত পনেরদিন আগে নিজের সাব কবলা করা জমিতে পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরুর থেকে কোন কারন ছাড়াই অহেতুক তর্কের সৃষ্টি করার চেষ্টা করে আসছিলেন বিকাশ চন্দ্র। গত ৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ভুক্তভোগী উজ্জ্বল হাওলাদারের নির্মানাধীন ঘরের সামনে এসে পূর্ব কারন ছাড়াই নিজের পেশাগত কাজে থাকা উজ্জ্বল হাওলাদারের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে বিকশ। এসময় বিকাশ চন্দ্র জোর পূর্বক বেআইনিভাবে ঘরের কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করলে উজ্জ্বল হাওলাদারের স্ত্রী এসে স্বামীকে এমন অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করা ও কাজ বন্ধ করার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিকাশ চন্দ্র উজ্জ্বল হাওলাদারের স্ত্রীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করতে করতে একপর্যায়ে তাকে মারধর করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে শালিশ বৈঠকে বসার কথা হয়। পরে শালিশ বৈঠকে না বসে ধূর্ত বিকাশ চন্দ্র স্থানীয় গণ্যমান্যদের না জানিয়ে বরগুনা অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল আদালতে শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঘটনা দেখিয়ে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে বিকাশ। তবে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে শনিবার এমন কোন ঘটনাই ঘটে নাই বলে জানান তারা।
ভুক্তভোগী উজ্জ্বল হাওলাদার বলেন, আমার বাড়ির কাজ শুরু থেকেই বিকাশ চন্দ্র বিনা কারণে বিভিন্ন সময় আমার সাথে এরকম দুর্ব্যবহার করে আসছেন। শুক্রবার তিনি শুধু গালমন্দ করেও ক্ষান্ত হননি, উপরন্তু আমার স্ত্রীর গায়ে হাত তুলেছেন, মারধর করছেন। এলাকার শত-শত মানুষ স্বাক্ষী আছেন। আমি বিকাশ চন্দ্রের এমন কুকর্মের ন্যায় বিচারের আশায় আদালতে মামলা করেছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার দাবী করছি।
ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত বিকাশ চন্দ্রের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করার কারনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাচনাইন পারভেজ বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানার কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে আদালতে দায়ের করা মামলার তদন্তে আদেশ এখনো থানায় আসেনি, থানায় আসলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।








Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.