ভ্যাক্সিন কবে আসতে পারে,জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

অক্সফোর্ডের ভ্যাক্সিনের প্রাথমিক ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে আসার পরই আশা দেখতে শুরু করেছে মানুষ। তবে কী ২০২০-তেই আসবে ভ্যাক্সিন? এই বিষয়ে এবার মুখ খুলল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’।

 

বুধবার এই প্রসঙ্গে ‘হু’-এর এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, করোনার ভ্যাক্সিনের গবেষণার কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। শেষ পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে কোথাও কোথাও। তবে ২০২১-এর প্রথম দিকের আগে কোনও ভ্যাক্সিনের আশা করা উচিৎ নয়।

 

‘হু’-এর এমার্জেন্সি প্রোগ্রামের প্রধান মাইক রায়ান বলেন, সবাই যাতে ভ্যাক্সিন পায়, সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে হু। একইসঙ্গে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণেও কাজ করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তিনি আরও বলেন, ‘বেশ কয়েকটি ভ্যাক্সিনের ফেজ-৩ ট্রায়াল চলছে। কোনোটাই এখনও ব্যর্থ হয়নি। সবগুলিই সুরক্ষা দিচ্ছে ও ইমিউন সিস্টেম তৈরি করেছে। তবে তাঁর কথায়, আগামী বছরের শুরুতে হয়ত আমরা দেখতে পাব যে মানুষকে ভ্যাক্সিন দেওয়া হচ্ছে।

 

ভ্যাক্সিন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, WHO চেষ্টা করছে যাতে ভ্যাক্সিনের প্রোডাকশন বাড়ানো যায়। কারণ তাঁর কথায়, ভ্যাক্সিন শুধুমাত্র ধনীদের জন্য নয়, গরীবের জন্যও, ভ্যাক্সিন সবার জন্য।

 

অন্যদিকে, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত যাতে স্কুল না খোলা হয়, সেই বিষয়েও সতর্ক করেছেন মাইক রায়ান।

 

এদিকে, রাশিয়া তাদের ভ্যাকসিন ব্যবহারের জন্যে তৈরি বলে দাবি করেছেন। রাশিয়ার গামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার ফর এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজির সামরিক বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা মিলে দীর্ঘদিন ধরে করোনর এই ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চালাচ্ছিলেন। সম্প্রতি রুশ ডেপুটি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুসলান সালিকভ জানিয়েছেন, এই ভ্যাকসিন ব্যবহারের জন্যে তৈরি। ইতিমধ্যে ভ্যাকসিনটি দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল সম্পূর্ণ করেছে।

 

যাদের ওপর তার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ করছে, প্রত্যেকের শরীরেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি রুশ ডেপুটি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর।

 

রাশিয়ান এক সংবাদমাধ্যমকে সালিকভ জানিয়েছেন, আমাদের ন্য়াশনাল রিসার্চ সেন্টারের বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানীদের পরীক্ষানিরীক্ষার ফলের ওপর চূড়ান্ত পরীক্ষানিরক্ষা করা হয়েছে। ছেড়ে দেওয়ার সময় সব ভলান্টিয়ারের মধ্যেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি হয়েছে, তারা একেবারে স্বাভাবিক বলে ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ নোভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রথম ঘরোয়া ভ্যাকসিন রাশিয়ার হাতে চলে এসেছে বলেই জানিয়েছে সালিকভ।

 

তবে বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, আরও বেশ কিছু পরীক্ষা করা হবে এই ভ্যাকসিন নিয়ে। ফেজ থ্রি-তে ব্যাপক মাত্রায় ট্রায়াল হবে বলে জানানো হচ্ছে। তবে এই ট্রায়াল শুরু হবে সেই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। এমনকি কবে থেকে এই ভ্যাকসিন প্রচুর পরিমাণে তৈরি হবে সেই বিষয়েও এখনও কিছু জানানো হয়নি।

Facebook Comments Box
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225
  • Untitled post 11155
  • Untitled post 14630
  • Untitled post 14225